যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান অস্থিরতার মধ্যে তিনি ইরানে ‘শাসন পরিবর্তন’ দেখতে চান না। কারণ এতে ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি হবে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গতকাল এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ‘চাইলেই ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটত। কিন্তু আমি এটি চাই না। আমি চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সবকিছু শান্ত হয়ে যাক।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। আমরা আদর্শগতভাবে এত বিশৃঙ্খলা দেখতে চাই না।’
এ দিকে ইরান জানিয়েছে, ১২ দিনের সংঘাতের পর ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত।
তবে পারমাণবিক আলোচনায় ফেরার আগ্রহ দেখালেও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাঁর দেশ পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে তাঁদের ‘বৈধ অধিকারগুলো’ প্রতিষ্ঠা করে যাবে।
গত ১৩ জুন থেকে ইরানে আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েল। জবাবে পরদিন থেকে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। এই সংঘাতের মধ্যে ২১ জুন ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে এক দিন পর ২৩ জুন কাতারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। ১২ দিনের এই চলমান সংকটের মধ্যে হঠাৎ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পরে তেহরান জানায়, ইসরায়েল যদি আর হামলা না চালায়, তবে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে প্রস্তুত। ইরানের এমন ঘোষণার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণা আসে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ওপর ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৬১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানের হামলায় ইসরায়েলে ২৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়ছে ইসরায়েল সরকার।