ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ইরানে স্বস্তি ফিরলেও দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অনুপস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ১৩ জুন ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর খামেনিকে আত্মগোপনে নিয়ে যাওয়া হয়।
শুরুতে বিবৃতি দিলেও প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ঘোষণা না আসায় ক্রমেই বাড়ছে উৎকণ্ঠা। সেইসাথে ইরানের নেতৃত্ব ইস্যুতে বিরোধ চলার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক খামেনি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা কিংবা যুদ্ধবিরতি চুক্তির মতো বড় সিদ্ধান্তে তাঁর সম্মতি প্রয়োজন। তবে সামরিক কমান্ডার ও সরকারি কর্মকর্তারা কেউই নিশ্চিত করে বলেননি, সাম্প্রতিক সময়ের কোনো সিদ্ধান্তে খামেনির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ হয়েছে কি না।
সরকারের নীতিনির্ধারণে যুক্ত চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, খামেনির অনুপস্থিতিতে রাজনীতিক ও সামরিক নেতারা নতুন নতুন জোট গঠন করছেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের মধ্যস্থতা কিংবা ইসরায়েলের ব্যাপারে অবস্থান নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইরান পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্গঠন ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
‘খানমান’ নামের একটি ইরান দৈনিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোহসেন খালিফেহ সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘খামেনির কয়েক দিনের এ অনুপস্থিতি আমাদের, যাঁরা তাঁকে ভালোবাসি, গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।’
দুই সপ্তাহ আগেও যে আশঙ্কা অকল্পনীয় ছিল, তা এখন স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘যদি তিনি (খামেনি) মারা যান, তাঁর জানাজার মিছিল হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও গৌরবময়।’