পারমাণবিক কার্যক্রমে নজরদারিবিষয়ক জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করেছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের অনুমোদনের পর আজ বুধবার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্স বলছে, এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইএইএর সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করল ইরান। এর আগে গত বুধবার এ বিষয়ে দেশটির পার্লামেন্টে আয়োজিত ভোটে একটি বিল পাস হয়েছিল। এবার প্রেসিডেন্ট তাতে স্বাক্ষর করলেন। এমন এক সময় ইরান এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করল, যখন দেশটির পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে খোদ আমেরিকা।
গত ১৩ জুন ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। দেশটির পরমাণু কার্যক্রম টার্গেট করে এই হামলার দাবি করে তারা। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালালে তাদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ইরানের পরমাণু কার্যক্রমে হামলা চালিয়ে তাতে যুক্ত হয় আমেরিকাও।
১২ দিনের এই সংঘাতের পরে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পরমাণু কার্যক্রমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি। কিন্তু এই দাবি নাকচ করেছে ইরান। এমনকি আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা না করার কথাও জানিয়েছে তারা।
যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ইরান বলে আসছে, আইএইএর সঙ্গে তারা কোনো সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রাখবে না। এবার সেটি কার্যকর করল দেশটি। এর ফলে, এখন থেকে জাতিসংঘের এই সংস্থা ইরানের পরমাণু কার্যক্রম দেখতে চাইলে বা পরমাণু কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে নিতে হবে দেশটির সরকারের অনুমতি। আর ইরানে এই অনুমতি দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।
ইরানের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই প্রতিবেদনের ব্যাপারে আমরা অবগত। ইরানের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আরও আনুষ্ঠানিক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছে আইএইএ।’