ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলের মানবঢাল বানানোর কথা জানত বাইডেন প্রশাসন

ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে জানত বাইডেন প্রশাসন। গত বছর কীভাবে আইডিএফের সেনারা গাজার সুড়ঙ্গে ফিলিস্তিনিদের পাঠিয়েছিল সে কথা জানত ওয়াশিংটন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। 

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসবিরোধী অভিযানের নামে গাজায় সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। নির্বিচার হামলায় দীর্ঘ হতে থাকে মৃত্যুর মিছিল, পুরো উপত্যকা পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। 

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা বিশ্ব। তবে নিরব ভূমিকা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে, তা কোনভাবে মানতে রাজি ছিল না তৎকালীন বাইডেন প্রশাসন। 

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তা বাইডেন প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছিল বলে সম্প্রতি এক বিস্ফোরক তথ্য দেয় রয়টার্স। সাবেক ৫ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গত সপ্তাহে এই তথ্য জানায় বার্তা সংস্থাটি। বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে উপনীত হলে মার্কিন আইন অনুসারে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বন্ধ করতে হবে– এমন শঙ্কা থেকেই বিষয়টি চেপে যায় ওয়াশিংটন।

এবার আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল রয়টার্স। ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের বিষয়েও জানত বাইডেন প্রশাসন। প্রতিবেদন বলছে, গত বছর কীভাবে আইডিএফের সেনারা গাজার সুড়ঙ্গে ফিলিস্তিনিদের পাঠিয়েছিল সে আলোচনার কথা জানতো ওয়াশিংটন। 

রয়টার্সকে সাবেক দুই মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন জো বাইডেনের প্রশাসনের শেষ সপ্তাহগুলোতে হোয়াইট হাউসের সাথে তথ্য ভাগাভাগি করা হয়েছিল। সেইসাথে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেছিলেন খোদ মার্কিন গোয়েন্দারা। 

গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা একাধিকবার নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রয়টার্সের প্রতিবেদনটিকে অন্যতম নথি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।