ইরানের বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই সংহতি প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান এখন স্বাধীনতা চায়, যা সম্ভবত অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’
ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বর্তমানে উত্তাল ইরান। বিবিসি জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে একের পর এক সংঘর্ষ ও সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা এতই বেড়েছে যে অনেক হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। আহতদের চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হতাহতদের বেশিরভাগের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে। তেহরানের একটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বিবিসিকে বলেন, ‘অনেক তরুণের মাথায় ও বুকে সরাসরি গুলি করা হয়েছে।’
তবে ইরানের অভিযোগ, দেশটির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সহিংস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে রূপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২২ সালে পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে যে গণআন্দোলন হয়েছিল, তারপর এটিকে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি বাহিনীর কঠোর দমনের মুখে শত শত বিক্ষোভকারী হতাহত হয়েছেন।
স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, সহিংসতায় এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত শুক্রবার এক ভাষণে বলেন, ‘কয়েক লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ক্ষমতায় এসেছে এবং বিক্ষোভের মুখে এই সরকার পিছু হটবে না।’ এ সময় বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার চেষ্টা করছে।’
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পোস্টে পুনরুল্লেখ করেন, ‘ইরান স্বাধীনতার পথে হাঁটছে, যা আগে কখনো এভাবে দেখা যায়নি।’ তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করতে প্রস্তুত।
বিক্ষোভে সমর্থন দিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েনও। গত শনিবার তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘সহিংস দমন-পীড়নের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস গত শুক্রবার একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তাঁরা ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।