ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী তৎপরতা বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার। ইরানের কূটনীতিকদের বরাতে রুশ গণমাধ্যম আরটি জানায়, বিক্ষোভের আড়ালে সক্রিয় দাঙ্গাবাজরা সেখানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে। এসব সহিংসতার জন্য দাঙ্গাবাজদের নগদ অর্থ দেয়া হচ্ছে বলে দাবি তেহরানের।
অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে শুরু হয় বিক্ষোভ। সময়ের সঙ্গে তা পরিণত হয় সরকারবিরোধী সহিংস আন্দোলনে। যাতে এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইরানে অনুপ্রবেশ করেছে। ইরানের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রুশ গণমাধ্যম আরটি জানায়, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীরা আতঙ্ক ছড়ানো ও আরও বেশি রক্তপাত ঘটাতে আইএসের মতো কৌশল ব্যবহার করেছে।
বুধবার ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একই অভিযোগ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, ‘আইএস স্টাইলে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। তারা পুলিশদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারে, শিরশ্ছেদ করে ও সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায়। আমাদের লড়াই ছিল সেসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নয়। তারা চেয়েছিল মৃত্যুদণ্ড বাড়াতে, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করেন। এটা ছিল একটি ইসরায়েলি চক্রান্ত।’
আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা, যানবাহন ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে আগুন দেয়া হয়েছে। শুধু রাজধানী তেহরানেই অন্তত ২৬টি ব্যাংক ও ২৫টি মসজিদে আগুন দেয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া অগ্নিনির্বাপণের সময় দমকল কর্মীদের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
আরটি প্রতিবেদনে ইরানি কূটনৈতিক সূত্র আরও দাবি করে, এসব সহিংস কর্মকাণ্ডের পেছনে বিদেশি অর্থায়ন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি পুলিশ স্টেশনে হামলার জন্য প্রায় ৬০০ ডলার ও সরকারি যানবাহনে আগুন দেয়ার জন্য প্রায় ৩০০ ডলার দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত নথি তেহরানের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।