শান্তিচুক্তি কার্যকরের পর থেকে ৪৮০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

একশর বেশি দিন ধরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজাবাসীর দুঃস্বপ্ন যেন শেষ হওয়ার নয়। প্রথম ধাপের শান্তিচুক্তি নাজুক অবস্থায় থাকায় দ্বিতীয় ধাপ নিয়েও শঙ্কিত তারা। শান্তিচুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ৪৮০-এর বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার গাজার পূর্ব শহর জেইতুনে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫ জন ফিলিস্থিনি নিহত হয়েছেন। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বরা হয়, একশর বেশি দিন ধরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পরে এই চুক্তি সাধারণ মানুষকে সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, ইসরায়েলের চলমান হামলার কারণে গাজার মানুষের জীবন এখনও অনিরাপদ। 

যুদ্ধবিরতির পর জীবন যতটা সহজ হবে বলে ভেবেছিল গাজাবাসী ততটা সহজ হয়নি। পানি ও খাবার কিছুটা সহজলভ্য, বিদ্যুৎ ফিরেছে সীমিতভাবে, শহরের ভেতরে চলাচল করা যাচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলের ত্রাণ ও ক্রসিং নিয়ন্ত্রণ, হামাস নির্মূলের নামে হামলা করা গাজাবাসীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দিচ্ছে না।  

গাজার এক বাসিন্দা বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি কোথায়? আমরা সাধারণ মানুষ বাস্তবে কোনো পরিবর্তন দেখছি না। আমাদের জন্য যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। কষ্ট আগের মতোই রয়ে গেছে। ভয় ও শঙ্কা ছাড়া আমাদের কিছুই নেই।’ 

সাথে পণ্যের দামবৃদ্ধির, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুই বছরের ধংসযজ্ঞ, পরিবার-ঘরবাড়ি হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কারণে গাজাবাসী সার্বিকভাবে শান্তি বা নিরাপদ অনুভব করতে পারছে না।

এদিকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’ বাস্তব জীবনে কোনো পরিবর্তন আনবে কিনা তা নিয়েও সন্দিহান গাজার স্থানীয়রা। এমনিতেই শান্তিচুক্তির প্রথম ধাপ নাজুক অবস্থায় আছে। এর পরবর্তী ধাপের মূল বিষয়গুলো যেমন হামাসের অস্ত্র বিসর্জন, গাজার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ এবং শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার আরও কঠিন বলে মনে করছে গাজাবাসী। 

পাশাপাশি গাজার বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বোর্ডে যোগ দেবেন। যা গাজার মানুষের আশার আলো নেভানোর জন্য যথেষ্ট। 

এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি ঘোষণা করেছেন শান্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। কিন্তু আমরা এমন কিছুই দেখছি না। দিনে-রাতে গুলির শব্দ শুনতে হয়। লাশ দেখতে হয়। আমরা সব আশা ছেড়ে দিয়েছি। কী পুনর্গঠন করবে? গাজার অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। গাজা আর কখনও আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।’ 

এসবের মাঝেই গাজার মানুষ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করছে। নিজ উদ্যোগে ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছে, ছোট দোকান ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছে, ভবন মেরামত করছে এবং সীমিত সরঞ্জাম দিয়ে প্রয়োজনীয় সেবা ফিরিয়ে আনছে।