২০২৩ সালে হামাসের ইসরায়েলে হামলার পেছনে কাজ করেছে ২০ বছরের রাজনৈতিক উপেক্ষা। ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনিরা তাঁদের জন্য হামাসকে নির্বাচিত করলেও রাজনৈতিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি সংস্থাটি। উল্টো মিলেছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠির তকমা। যা, রাজনৈতিক কাঠামো নষ্ট করে গাজায় জন্ম দিয়েছে ভয়াবহ মানবিক সংকটের। রুশ সংবাদ মাধ্যম আরটি-র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এ চিত্র।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলা করার নেপথ্যে আছে ২০ বছর ধরে হামাসকে রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষা করা। পশ্চিমা দেশগুলো কখনও হামাসকে রাজনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, যার ফলেই ফিলিস্তিনিদের আজকের এই পরিণতি বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০ বছর আগে, ২০০৬ সালে হামাস ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক সমর্থন পেয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। আগের শাসক দল ফাতাহ-র দুর্নীতি, সরকারের ব্যর্থতা এবং শান্তি চুক্তির অসফলতার কারণে মানুষ হামাসের পাশে দাঁড়ায়।
হামাস শুধু সশস্ত্র গোষ্ঠী ছিলো না। তারা গাজার উন্নয়নে কাজ করে, যেমন- স্কুল, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে, চ্যারিটি ও সামাজিক সেবা দিয়ে জনগনের ভরসা অর্জন করেছিলো। হামাস শুধু প্রতিরোধে নয়, বরং সমাজের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম তা প্রমাণ করেছিলো।
হামাসের এই জনপ্রিয়তা পশ্চিমা দেশগুলো ও ইসরায়েলের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। পশ্চিমা দেশগুলো হামাসকে একটি ‘অস্ত্রধারী গোষ্ঠী’ হিসেবে দেখে, যা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
তাই নির্বাচনের ফলাফলের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইসরায়েল ঘোষণা করেছিলো, হামাসকে সরকার পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না, যতক্ষণ তারা সহিংসতা বন্ধ করে এবং ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেয়।
এভাবে হামাস আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষিত ও স্বচ্ছ নির্বাচনে জয়ী হলেও, তাদেরকে রাজনীতির বাইরে রাখা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা তাঁদের জন্য একটি সরকার নির্বাচন করলেও তাঁদের ভোটের অধিকার নাকচ করা হয়েছে।
এরপর থেকেই গাজায় অর্থনৈতিক অবরোধ, সীমিত আক্রমণ কিংবা সন্ত্রাস প্রতিরোধ অভিযান চালানো শুরু হয়। সেই অবরোধ ও বিচ্ছিন্নতাই গাজার জন্য এক ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করার জন্য দায়ী।