গাজায় গণহত্যা: জানা গেল ইসরায়েলের খরচের পরিমাণ

গাজার যুদ্ধ এখন শুধু মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িত বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক হিসাব। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই অভিযানে সংঘটিত গণহত্যার পেছনে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ১১২ বিলিয়ন ডলার। এই খরচ শুধু ইসরায়েলের নয়, যুক্তরাষ্ট্রেরও—এমন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের 'কস্ট অব ওয়ার' প্রতিবেদনে।

গাজার যুদ্ধ শুধু মানবিক বিপর্যয় নয়, এটি এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ব্যয়ের গল্পও।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে ৭৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জন নিহতের এই গণহত্যার পেছনে আছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক হিসাব।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের মোট অর্থনৈতিক হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১২ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে শুধু গাজা যুদ্ধেই ব্যয় হয়েছে অন্তত ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা দৈনিক গড়ে ৯৬ মিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া এর মধ্যে সরাসরি প্রতিরক্ষা ব্যয় ৭৭ বিলিয়ন ডলার, সম্পত্তির ক্ষতিপূরণে ১০.৫ বিলিয়ন, বেসামরিক খাতে ১৮ বিলিয়ন এবং সুদ পরিশোধে ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে জানান ইসরায়েলের সাবেক সামরিক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা গিল পিনখাস।

গোলাবারুদের খরচের সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ না হলেও অর্থ উপদেষ্টার মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ১০৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সরঞ্জাম কেনায় বরাদ্দ করা হয়েছে। বিপুল রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের প্রভাবও পড়েছে ইসরায়েলের অর্থনীতিতে।

এদিকে এই যুদ্ধের খরচ শুধু ইসরায়েলের নয়, যুক্তরাষ্ট্রেরও। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের 'কস্ট অব ওয়ার' প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ২১.৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব বলছে, সব মিলিয়ে ৩১ থেকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগের বিপরীতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা পুনর্গঠনে লাগবে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ডলার।