দুই দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুটি দূতাবাসই আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন আঘাত হানে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, এতে সীমিত অগ্নিকাণ্ড হয়েছে, এবং ভবনের সামান্য ক্ষতি হয়েছে। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, দূতাবাসের ‘ভিতরে বা আশপাশে’ আরও দুটি ড্রোন আঘাত হানে।

হামলার পর ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) টেলিগ্রামে পোস্ট দিয়ে জানায়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে ‘আমেরিকান রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংসের অভিযান’ শুরু করেছে। রিয়াদে ওয়াশিংটনের দূতাবাসে বিস্ফোরণকে তারা ওই পদক্ষেপের অংশ বলে উল্লেখ করে।

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউজ নেশনকে বলেন, পাল্টা জবাব কী হবে, তা ‘খুব শিগগিরই জানতে পারবেন।’

এদিকে সিএনএন আরও জানায়, কুয়েতেও রোববার ও সোমবার মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। সেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে হতাহতের কোনো খবর নেই। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সরাসরি দূতাবাসে আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও নিরাপত্তা হুমকির কথা স্বীকার করেছেন।

সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র মিশন রিয়াদ, জেদ্দা ও ধাহরানে ‘শেল্টার ইন প্লেস’ নির্দেশনা জারি করেছে। সামরিক স্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত করা হয়েছে। নাগরিকদের ঘরের ভেতরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

কুয়েত দূতাবাসও নিরাপত্তা সতর্কতায় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি অব্যাহত আছে। সব ভিসা ও নাগরিক সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দূতাবাসের কর্মীরাও নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ে রয়েছেন।