ইরানের ড্রোন হামলায় আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর ও জাহাজে আগুন

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এক সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ঘিরেই একের পর এক ভিন্ন তিনটি ঘটনার খবর এসেছে।

আমিরাতের ফুজাইরাহ তেলবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফুজাইরাহ আমিরাতের অন্যতম প্রধান তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর – ইরান যুদ্ধে বিরতির আগেও এই বন্দরে ড্রোন হামলা হয়েছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফুজাইরাহ গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, সিভিল ডিফেন্স আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই প্রতিহত করেছে। আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র সাগরে গিয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তা এই প্রতিরোধ অভিযানের ফল বলে জানানো হয়।

এর বাইরে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার কথাও জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ওই জাহাজটিতে আঘাত হানা হলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দেশটি এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে এবং ইরানকে এমন হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

এরপর হরমুজ প্রণালিতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমার কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটিতে থাকা ২৪ জন নাবিকের কেউ হতাহত হননি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত নয়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজের সহায়তায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ধ্বংসকারী জাহাজ এই পথ পাড়ি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং তাদের সহায়তায় মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজগুলোও নিরাপদে চলাচল করেছে। যদিও ইরানের দিক থেকে এমন দাবি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ইরান দাবি করেছিল, তারা মার্কিন জাহাজকে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশে বাধা দিয়েছে এবং সতর্কতামূলক গুলিও ছুড়েছে। একই সঙ্গে ইরানের একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, একটি মার্কিন জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি অস্বীকার করেছে।

এই উত্তেজনা দেখা দিয়েছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করা হবে। এর লক্ষ্য, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এ কার্যক্রমে ১৫ হাজার সেনা সদস্য, শতাধিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন মোতায়েন থাকবে।