সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলায় ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক সূত্র। বিবৃতিতে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা জানান, এসব হামলা ইরানের ভূখণ্ড থেকে চালানো হয়নি। আমিরাতকে লক্ষ্য করে তাদের কোনো পরিকল্পনা এবং কোনো পরোক্ষ সম্পৃক্ততাও ছিল না বলেও জানিয়েছেন ইরানের কর্মকর্তারা।
সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সাউথ কোরিয়া উভয় দেশই জানায়, হরমুজে তাদের জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া, ইরানের হামলার পর আরব আমিরাতের ফুজাইরা তেল বন্দরে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পাশাপাশি আরব আমিরাত কয়েকটি ড্রোন ঠেকিয়ে দেওয়ার দাবিও করেছে।
এসব হামলা ইরান করেছে বলে খবর এলেও এখন ইরান দাবি করছে, এসব হামলা তাদের দিক থেকে হয়নি।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধবিরতির আগে, যুদ্ধের শুরুর দিকে গত ২ মার্চ সৌদি আরবের আরামকো তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা হয়। সে সময় ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রথমে গুঞ্জন ওঠে। তবে ইরান তখনও জানিয়েছিল, এই হামলা তারা করেনি।
আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরেও যুদ্ধবিরতির আগে হামলা হয়েছিল।
গতকাল আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে হামলায় ৩ ভারতীয় নাগরিক আহত হওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।
এদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাইয়ার বন্দরে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সাউথ কোরিয়া জানিয়েছে, তাদের একটি জাহাজে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা। তবে আগুনের কারণ এখনো জানা যায়নি।
এর আগে হরমুজে ইরানের ৭টি স্পিডবোটে হামলা চালানোর দাবি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, এতে ৫ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা করা স্পিডবোটগুলো আইআরজিসি-র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল না।
এদিকে প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযানের আওতায় প্রণালিতে আটকা পড়া জাহাজগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। এসব জাহাজে হামলা চালালে ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন ট্রাম্প।
বিপরীতে হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের যেকোনো প্রচেষ্টার কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।
এদিকে রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।