তীব্র গরমে বিপর্যস্ত ভারতের উত্তর, পূর্ব এবং মধ্যাঞ্চল। সেখানে তাপমাত্রার পারদ ছুঁয়েছে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুরুতে তীব্র তাপপ্রবাহ ২২ মে পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এমন পূর্বাভাস থাকলেও বাড়ানো হয়েছে মেয়াদ। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ বলছে ২৮ মে পর্যন্ত চলবে তীব্র তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।
বছরের এপ্রিল ও মে মাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য উষ্ণতম সময়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন সুপার এল নিনোর প্রভাবে চলতি বছর তাপমাত্রা পরিস্থিতি ক্রমেই অসহনীয় রূপ নিচ্ছে।
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ভারত। শনিবার ভারতের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় উত্তরপ্রদেশে। সেখানে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দিল্লিতেও তাপমাত্রা ৪৪ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। প্রচণ্ড গরমে দেখা দিয়েছে পানির তীব্র সংকট। গরম ও পানির সংকটে দিল্লির সঞ্জয় লেকে মরে গেছে শতাধিক মাছ।
শুধু দিল্লি কিংবা উত্তরপ্রদেশই নয়, গরমে পুড়ছে পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়সহ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, তেলঙ্গানা, রাজস্থানসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
সাধারণত দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা কিছু কম থাকে। তবে এবার দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশসহ ভারতের উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকছে। দিল্লিতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রির আশপাশে ঘুরছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষের।
গরমে অতিষ্ঠ স্থানীয় এক বাসিন্দা জানালেন, এই গরম আমাদের ভোগান্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি সন্ধ্যায়ও তামপাত্রা সহ্যের বাইরে চলে গেছে। শ্রমিকরা রোদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করে কিন্তু ঘরে থাকলে তো সংসার চলবে না। আমরা কোনোমতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
তীব্র গরমে বিপাকে পড়েছেন গর্ভবতী নারীরা। অন্যান্যদের তুলনায় তাদের হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
আরও ৫ দিন তীব্র তাপপ্রবাহ থাকবে বলে সতর্কতা জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ। পুর্বাভাস বলছে, তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে রয়েছে ভারতের উত্তর-পশ্চিম, উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল। পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া বিভাগ।