মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাড়ছে কোরবানির পশুর দাম

ঈদুল আজহা সামনে রেখে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জমে উঠেছে পশুর হাট। তবে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব সরাসরি পড়ছে কোরবানির পশুর দামে। কোথাও বাড়ছে খরচ, কোথাও কমছে ক্রেতার ভিড়। ফলে ঈদের আনন্দের মাঝেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে নতুন এক অর্থনৈতিক সংকট।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ঈদুল আজহার আগে জমে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার পশুর হাট। পূর্ব জাভায় একটি খামারে দেখা মিলছে উটের পাল। গরু-ছাগলের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় উট পালনের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় খামারিরা। 

উট খামারি ফাইজাল এফেন্দি বলেন, ‘এটা এখনো শেখার পর্যায়ে আছে। সাধারণত আমরা উট শুধু চিড়িয়াখানায় দেখি। গরু-ছাগল পালনে অফ-সিজনে দাম খুব কমে যায়। তাই বিকল্প হিসেবে উট পালনের চেষ্টা করছি।’

খামারটিতে শিশু ও দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। ইন্দোনেশিয়ায় কোরবানির পশু হিসেবে উট ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও বয়স সংক্রান্ত নিয়ম এখনো বড় বাধা।

এদিকে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় কোরবানির পশুর দামও বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা। কমে গেছে ক্রেতাদের ভিড়। 

কোরবানির পশু কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘জানুয়ারির চেয়ে মে মাসে গরু কেনার খরচ অনেক বেড়েছে। ডলারের মূল্য ও তেলের দামের কারণে আমাদের মূলধন খরচ বেড়েছে। কোরবানির পশু কেনায় মানুষের অংশগ্রহণ প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।’

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে ইরাক, ইয়েমেন ও পাকিস্তানেও। ঈদ সামনে রেখে পশুর বাজারে ভিড় থাকলেও বাড়তি দামের কারণে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরছেন। 

এক ক্রেতা বলেন, ‘প্রতি বছরই আমরা কোরবানি দিই। কিন্তু আগে যে ভেড়ার দাম ছিল ২ লাখ দিনার, সেটা এখন ৪ থেকে ৬ লাখ।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে। তেলের দাম বাড়ায় তার প্রভাব পড়ছে পশুর বাজারসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে। আপস...

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা ও জ্বালানি সংকটের ঢেউ এখন সরাসরি আঘাত হেনেছে কোরবানির পশুর বাজারে। ফলে ঈদের আনন্দের মাঝেও বাড়তি দামের চাপে নাজেহাল সাধারণ ক্রেতারা।