ইরান দ্রুত তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো পুনরুদ্ধার করছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এর ফলে দেশটি ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে আরও বেশি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই তৎপরতা মার্কিন কৌশলের সীমাবদ্ধতাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের বহু ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির প্রবেশপথ ও সড়কপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লক্ষ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও অস্ত্রভাণ্ডারে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়া।
তবে কিছু স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করেছে সিএনএন। এতে দেখা যায়, বুলডোজার, ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করে ইরান দ্রুত এসব স্থাপনা পুনরুদ্ধারের কাজ করছে। হামলার শিকার ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ৬৯টি প্রবেশপথের মধ্যে ৫০টিই এরই মধ্যে পুনরায় খুলে ফেলা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত অনেক সড়কও মেরামত করেছে তেহরান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ করে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব নয়। কারণ ভূগর্ভে এখনো বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে।
গবেষক স্যাম লেয়ার বলেন, অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্রের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষতি তুলনামূলক কম প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেই দ্রুত মেরামত করছে ইরান। আর পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র, উৎক্ষেপণযন্ত্র ও প্রশিক্ষিত ক্রু থাকায় ইরান এখনো হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসকে যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। তাদের বহু ঘাঁটি কয়েকশ মিটার পাথরের নিচে অবস্থিত। আপস...
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোতে এখনো প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি ড্রোন উৎপাদন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিলে ইরানের এই পুনরুদ্ধারকৃত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আবারও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।