ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও মাঠপর্যায়ে থামছে না সংঘাত। যুদ্ধবিরতির আলোচনার আবহেই ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চলমান এই পরিস্থিতির কারণে এখন দুই দেশের মধ্যকার 'যুদ্ধবিরতি'র সংজ্ঞা ও কার্যকারিতা নিয়েই বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
ইরানের রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালির দিকে ইরানের পাঠানো চারটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ইরানের এই ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক নৌযান চলাচলের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছিল। ভবিষ্যতে এমন ড্রোন হামলা ঠেকাতেই ইরানের ওই রাডার স্থাপনাটি ধ্বংস করা হয়েছে।
পাল্টা জবাবে মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির মিসাইল
যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরান। মার্কিন হামলার জবাব দিতে শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে আইআরজিসি। কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মোট ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা। তবে কুয়েতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের সীমান্তে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তারা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে ট্রাম্পের নতুন দাবি
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের কাছে এখনো তাদের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া এই হিসাব গত মাসের চেয়েও বেশি। এর আগে মে মাসে তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের কাছে মাত্র ১৮ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে।
ট্রাম্পের সাক্ষাতের প্রস্তাব অবাস্তব: ইরান
এর আগে শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, 'পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে টানা ৪০ দিন লড়াই করা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে বিশ্ববাসী ইরানি জাতির প্রকৃত শক্তি ও সামর্থ্য দেখেছে।'
একই সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার যে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন আরাগচি। ট্রাম্পের এই আলোচনার প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ 'অবাস্তব' বলেও মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।