হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং নয়, বরং ট্রুথ সোশ্যালে বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তাতেই বদলে যাচ্ছে বিশ্ববাজারের হিসাব-নিকাশ।
কখনো ইরানকে হুমকি, কখনো যুদ্ধবিরতির ঘোষণা, আবার কখনো কূটনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত। ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টগুলো এখন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেরও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে উঠেছে।
কখনো যিশু খ্রিস্ট, কখনো এলভিস প্রিসলি, আবার স্যার উইনস্টন চার্চিল, মাদার তেরেসা কিংবা কাল্পনিক চরিত্র জেমস বন্ড। ট্রুথ সোশ্যালে এভাবেই নিজেকে বিভিন্ন রূপে উপস্থাপন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি এক পোস্টে নিজেকেই দ্য গ্রেটেস্ট অ্যাট্রাকশন হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
তবে আত্মপ্রচারণামূলক এসব পোস্টের বাইরেও সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার ধারাবাহিক বার্তা।
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যম কার্যক্রম ছিল বেশ সক্রিয়। মার্চে প্রকাশিত দ্য ইনডিপেনডেন্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর মাত্র ৯ দিনের মধ্যেই ২০০টির বেশি পোস্ট করেন তিনি। এর মধ্যে সরাসরি ইরান যুদ্ধ নিয়ে ছিল প্রায় ২০ শতাংশ।
বিশ্বনেতারা সাধারণত সংবাদ সম্মেলন বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন। সামরিক অভিযান, যুদ্ধবিরতি, পারমাণবিক আলোচনা বা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, এসব বিষয়ে তিনি সরাসরি কথা বলেন নিজের সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের পোস্টের সংখ্যাও বেড়েছে। সামরিক পদক্ষেপ, কূটনৈতিক অগ্রগতি বা নতুন কোনো সংকেত সামনে এলেই ট্রুথ সোশ্যালে সরব হয়ে উঠেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পোস্টের প্রভাব শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয়। কারণ ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত এলে তেলের বাজারে স্বস্তি ফেরে, আর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়লে বাজারে দেখা দেয় নতুন উদ্বেগ।
বিবিসির এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাম্প ট্রুথে ২ হাজার ৪৫৭টি পোস্ট করেছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০টি পোস্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের পোস্টগুলো শুধু পররাষ্ট্রনীতির বার্তা নয়; বরং সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত করার কৌশলও বটে।



