ভারতীয় জাহাজে কেন আমেরিকার হামলা, কী হলো হরমুজে?

ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে কি বড় ফাটল ধরতে চলেছে? মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত জলসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার তেলবাহী জাহাজ। ছিলেন ২৪ জন ভারতীয় নাবিক। ২১ জন উদ্ধার হলেও নিখোঁজ তিনজন। আর এই ঘটনার পরই শুরু হয় বড় কূটনৈতিক ঝড়। আমেরিকার শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করেছে ভারত, জারি করেছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ। প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কী ঘটেছিল ওমান উপকূলে? কেনই বা ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা হলো?

ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে তেলবাহী জাহাজ ‘সেত্তেবেল্লো’। ওমান উপকূলের কাছে, হরমুজ প্রণালীর আশপাশে চলছিল জাহাজটি। হঠাৎ একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে ইঞ্জিন রুমে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পাঠানো হয় বিপদ সংকেত।

জাহাজটিতে ছিলেন মোট ২৮ জন নাবিক। তাঁদের মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয়। উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ২১ ভারতীয়কে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিনজনের কোনো খোঁজ এখনও মেলেনি। চলছে অনুসন্ধান।

এরই মধ্যে সামনে আসে আরও বিস্ফোরক তথ্য। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টকম’ জানায়, তাদের বাহিনীই জাহাজটিকে অচল করে দিয়েছে। জাহাজটি বারবার নির্দেশ অমান্য করেছিল। তাই একটি মার্কিন বিমান জাহাজের ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালায়।

তবে এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। তারা বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ ও সাধারণ নাবিকদের লক্ষ্যবস্তু করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত উত্তেজনা কমানোর আহ্বানও জানিয়েছে ভারত।

পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে হরমুজ প্রণালীর চলমান সংকট। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়। সম্প্রতি একের পর এক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথ এখন পরিণত হয়েছে সংঘাতের কেন্দ্রে।

এই ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা আইএমও। সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গোয়েজ বলেছেন, এ হামলা সমুদ্রযাত্রীদের জীবন ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে। এ হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আইএমও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী ও আশপাশে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ৪৩টি হামলার শিকার হয়েছে।

একদিকে আগুনে পুড়ছে জাহাজ, অন্যদিকে নিখোঁজ নাবিকদের পরিবারের চোখে অনিশ্চয়তার অন্ধকার। সমুদ্রের বুকে ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে? এর পেছনে লুকিয়ে আছে কি নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত?

প্রশ্নগুলো এখনও উত্তরহীন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—হরমুজ প্রণালী আবারও পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আর এমটি সেত্তেবেলোর সেই আগুন যেন পুরো বিশ্বের জন্য এক অশনি সংকেত।