তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর শান্তি চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমানোর লক্ষ্য নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এসব লক্ষ্য কতোটা অর্জন করতে পেরেছে ওয়াশিংটন, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। তবে এ আলোচনা ছাপিয়ে, সামনে আসছে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব।
যুদ্ধ শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ছিল ইরানের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সংঘাতে ইরানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান এখনও ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়েও কুয়েত, বাহরাইন ও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ তারই প্রমাণ।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের ১৬১টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৮২ শতাংশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অথচ এরপরও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা বজায় রেখেছে তেহরান। এমনকি গেল সপ্তাহে হরমুজের আশপাশেই একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে আইআরজিসি।
ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তবে মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন বলছে, দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। এক বছরের কম সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা এখনও ইরানের রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধের শুরুতে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের কথাও বলেছিলেন ট্রাম্প। অথচ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ অনেক নেতার হত্যাকাণ্ডেও টলেনি তেহরানের শাসনব্যবস্থা।
আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেত্রে মিশ্র চিত্র। হামাস, হিজবুল্লাহসহ ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দুর্বল হয়েছে এবং তাদের নেতৃত্ব ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। তবে তাদের প্রতি সমর্থন থেকে একচুল সরেনি তেহরান।
সব মিলিয়ে, এ যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে কিছুটা দুর্বল করলেও পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন তাৎক্ষণিক সাফল্যের দাবি করলেও দীর্ঘমেয়াদে ফল কী হবে, তা ঠিক হবে আলোচনার টেবিলে।