সমঝোতার পরেও শঙ্কা নিয়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ফিরছেন বাস্তুচ্যুতরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ফিরতে শুরু করেছেন বাস্তুচ্যুতরা। এ যাত্রায় শান্তির আশা জাগলেও স্বস্তি ফিরেনি তাদের জীবনে। কাগজে-কলমে চুক্তি হয়ে গেলেও বাস্তবে ইসরায়েলের হামলা থামবে কিনা, তা নিয়ে এখনও রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সাইদা শহরের সড়কগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ যানজট। আসবাবপত্র আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে অনেকেই ফিরছেন নিজ শহরে। প্রিয় এলাকা থেকে প্রায় তিন মাস দূরে থাকার পর, অবশেষে তাদের সুযোগ হলো ঘরে ফেরার। সামনের দিনগুলোকে কী হবে, সেই উৎকণ্ঠা এখনো রয়েছে তাদের মনে। 

এদিকে স্বস্তিতে নেই বৈরুতের তাঁবুগুলোতে থাকা বাস্তুচ্যুতরাও। 

বাস্তুচ্যুত লেবানিজ মোহাম্মদ দোগমান বলেন, ‘ইরান আর আমেরিকার বিষয় হয়তো শেষ হয়েছে। কিন্তু লেবাননে এখনো কিছুই শেষ হয়নি। আমরা শুধু শান্তি চাই। এমন একটি ভবিষ্যৎ চাই যেখানে ছয় মাস বা এক বছর পর আবার নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হবে না।’

দক্ষিণাঞ্চলের টায়ার শহরের বাসিন্দাদের অনেকেই বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে, যুদ্ধ শেষ হয়েছে। কারণ, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানো হলেও, হামলা হয়েছে এই শহরে। 

টায়ারের বাসিন্দা আবদেলকরিম আল-দাহি বলেন, ‘ইসরায়েল অতীতেও চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলেনি। বছরের পর বছর গাজায় তারা কী করেছে তা আমরা দেখেছি। সীমান্তে এখনো তারা সক্রিয়। তাই নতুন এই চুক্তি নিয়েও আমাদের সংশয় আছে।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং হিজবুল্লাহ-ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া-কোনোটাই স্বস্তি দিতে পারছে না দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের।

এর আগে বারবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির পরেও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে একের পর এক হামলা অব্যাহত ছিল। এমনকি বাসিন্দাদের দেওয়া হয়েছে এলাকা ছাড়ার নির্দেশও।

ফ্রান্সে ভার্চুয়াল সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে এবং শুক্রবার আইডিএফ ও হিজবুল্লাহর নতুন কোরে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আগ পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলে নিহত হয়েছে ১৮ জন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৩ জন।