যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ঘিরে ইরানে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

কয়েক মাসের সংঘাত ও উত্তেজনার পর অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে, এ চুক্তি নিয়ে ইরানের জাতীয় রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শর্তসাপেক্ষ সমর্থন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও কট্টরপন্থীদের বিরোধিতা, সব মিলিয়ে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। (রয়টার্স)

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা স্মারক সই ঘিরে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। এমন তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চুক্তি সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে ভিন্নমত পোষণ করলেও, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দায়িত্ব নেয়ায় তিনি অনুমতি দেন। বিবৃতিতে মোজতবা জানান, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি করলে ইরান তা মেনে নেবে না। 

তবে এ চুক্তিকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, এটি পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। 

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ অবিশ্বাস বজায় রেখেই আলোচনা এগিয়ে নেবে। চুক্তি না মানলে রয়েছে পাল্টা ব্যবস্থার প্রস্তুতিও। 

তবে চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করছে ইরানের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো। তাদের দাবি, ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে প্রেসিডেন্ট, স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। 

কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা ও এমপিরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আপস করতে গিয়ে ইরানের স্বার্থ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। একইসাথে পার্লামেন্ট পুরোপুরি খুলে দিয়ে চুক্তির ওপর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তি ঘিরে ইরানের ভেতরে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট। তাই, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সহজ হবে না।