ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শুরু হওয়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের একটি ধারা। সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, চুক্তির ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের অস্পষ্ট ভাষা ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনা ও পারমাণবিক ইস্যুতে অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে ১৭ জুন সমঝোতা স্মারক সই করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। স্মারকের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে– ১, ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর অনুচ্ছেদের বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পরই দু’পক্ষ বাকি বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনায় বসবে।
ওইসব অনুচ্ছেদের মধ্যে সামরিক অভিযান বন্ধ, কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল, ইরানের তেল রপ্তানির অনুমতি এবং জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাস্তবায়ন শুরু বলতে কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। ফলে দু’পক্ষই নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী এর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিতে পারে। ফলে, ভবিষ্যতে নতুন কূটনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে।
সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক আলেক্সান্দ্রু হুডিস্টিয়ানু বলেন, ‘১৩ নম্বর অনুচ্ছেদটি মূলত ইরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। কারণ, নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি না হলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে, বাস্তবায়নের মানদণ্ড স্পষ্ট না হওয়ায় এটিই এখন দুই দেশের সম্পর্কের নতুন জটিলতা হয়ে উঠেছে।’
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়কে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতির সাথে যুক্ত করতে চায়। একইভাবে পুনর্গঠন তহবিল এবং জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার প্রশ্নও পারমাণবিক ইস্যুর সাথে সম্পর্কিত হয়ে পড়েছে।
চুক্তির এই অস্পষ্টতা দ্রুত দূর না করলে যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে উঠবে, মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আস্থার সংকটও আরও গভীর হওয়ার শঙ্কাও তাদের।