ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব বাড়ছে

মিত্র দেশ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের মাথাব্যথার কারণ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আমেরিকা ফার্স্ট নীতি আওতায় তেল আবিবকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখেন না তিনি। কেবল ভ্যান্স নন, ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে পুরো ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গেই নেতানিয়াহু প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা কমেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে থেকেই, বছরের পর বছর ধরে জেডি ভ্যান্স যুক্তি দিয়ে আসছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সবসময় এক হয় না এবং মার্কিন বাহিনীর ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয়। 

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে-পরেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। গত সপ্তাহে ইসরায়েল ইস্যুতে ভ্যান্স  বলেন, বিশ্বে তাদের প্রায় কোনও বন্ধুই অবশিষ্ট নেই, তাই একমাত্র বন্ধুর বিরুদ্ধে যাওয়ার আগে তেল আবিবের ভালোভাবে ভেবে দেখা উচিত।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আলোচক ছিলেন জেডি ভ্যান্স। তার তত্বাবধানে ১৭ জুন সইকৃত চুক্তিতেও ইসরায়েলের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে, ইসরায়েলের বিষয়ে কখনো মুগ্ধতা, কখনো নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জুনের শুরুতে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শান্তি আলোচনা হুমকির মুখে পড়ায়, নেতানিয়াহুকে কাণ্ডজ্ঞানহীন অভিহিত করেন তিনি। তরুণ রিপাবলিকানসহ মার্কিন ভোটারদের মধ্যেও তেল আবিবের বিরুদ্ধে জনমত পরিবর্তিত হচ্ছে।

পলিটিকোর প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে শীতল সম্পর্ক এখন অনেকটাই স্পষ্ট। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ৫ বার ওয়াশিংটন সফর করেছেন। এই বছর সফর করেছেন কেবল একবার। ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনকলের সংখ্যাও কমেছে।

তবে হোয়াইট হাউসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক শক্তিশালী রয়েছে। তেল আবিব সবসময়ই ওয়াশিংটন এক মহান মিত্র, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট উভয়েই একমত পোষণ করেন বলেও জানান হোয়াইট হাউস মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস।