একসময় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে যাঁদের সবচেয়ে শক্তিশালী জুটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্ক নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর বৈঠকের অনুরোধের খবরের মাঝেই ট্রাম্পের একটি মন্তব্য এখন বৈশ্বিক গণমাধ্যমের শিরোনাম। ট্রাম্প বলেছেন, "আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো... নেতানিয়াহু জানে বস কে।" তাঁর এই মন্তব্য দুই নেতার বর্তমান সমীকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছেন। ন্যাটো সম্মেলন শেষে চলতি সপ্তাহে বা তার পরের সপ্তাহে এই বৈঠক হতে পারে। তবে বৈঠকের খবরের চেয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ট্রাম্পের ‘বস কে’ সংক্রান্ত মন্তব্যটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত কূটনৈতিক সম্পর্কে এ ধরনের ভাষা সাধারণত দেখা যায় না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা নেতানিয়াহুর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে উঠেছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, "ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের অনেকেই মনে করেন, নেতানিয়াহু প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।"
এর আগে লেবাননে সামরিক অভিযান নিয়েও নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। একটি ফোনালাপে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেছেন বলেও একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে। তবে দুই নেতার মধ্যে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে ইরান ইস্যুতে। যেখানে নেতানিয়াহু কঠোর সামরিক অবস্থান বজায় রাখতে চান, সেখানে ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের বদলে আলোচনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
প্রতিবেদন বলছে, নেতানিয়াহুর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সমঝোতায় সম্মতি দেন এবং নতুন করে পারমাণবিক আলোচনা শুরু করেন। শুধু তাই নয়, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান সীমিত রাখার জন্যও তিনি নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন, যাতে ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে না যায়।
নেতানিয়াহুর জন্য এই সম্ভাব্য হোয়াইট হাউস সফর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন জনমত জরিপে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে একটি সফল বৈঠক নেতানিয়াহুর জন্য বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে পারত। কিন্তু সেই বৈঠকের আগেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে একই রাজনৈতিক মেরুর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা হলেও ইরান, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই নেতার অগ্রাধিকার এখন আর পুরোপুরি এক নয়। হোয়াইট হাউসের সম্ভাব্য বৈঠকে সেই দূরত্ব কমবে, নাকি সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হবে—সবার নজর এখন সেদিকেই।



