হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুপক্ষের লড়াইয়ের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। আজ বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও কমিয়ে আনা। এর পাশাপাশি তারা জানায়, প্রণালিটিতে অবরোধের অংশ হিসেবে তারা একটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপের কাছাকাছি এলাকায় এবং বন্দর আব্বাস ও বুশেহরে আঘাত হেনেছে; বুশেহরেই ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তারা আরও জানায়, হরমুজগান প্রদেশে দুটি সেতুতেও আঘাত করা হয়েছে। বিবিসি হরমুজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাসের পশ্চিমে একটি সেতুর ওপর হামলার বিষয়টি যাচাই করেছে।
এর আগে এই সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি আলোচনায় ফিরে না আসে তবে তাদের সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে।
এপ্রিল মাসে ট্রাম্প যখন বলেছিলেন, ,যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে বোমা হামলা চালাবে, তখন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছিলেন, বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালানো একটি যুদ্ধাপরাধ।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুরু হওয়া অবরোধের অংশ হিসেবে ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন মেরিন সেনারা প্রবেশ করেছে।
তারা জানায়, অবরোধ উপেক্ষা করে যাওয়ার চেষ্টাকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ভিন্ন পথে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
সেন্টকমের তথ্যমতে, ১৩ এপ্রিল থেকে ১৮ জুনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোতে আগের অবরোধ চলাকালে মার্কিন বাহিনী নয়টি জাহাজ অকার্যকর করে দিয়েছিল এবং ১৪০টিরও বেশি জাহাজকে ভিন্ন পথে যেতে বাধ্য করেছিল।
নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত যুদ্ধ অবসানের প্রাথমিক চুক্তিটিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার বলেছেন, ট্রাম্প ইরানের সাথে আলোচনার বিষয়ে এখনো আগ্রহী।
সংঘাত তীব্র হওয়ার সাথে সাথে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরান কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল—তা এখনো বন্ধ রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার তেহরান জানায়, তারা জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হেনেছে; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ওই প্রণালির বিভিন্ন স্থানে টানা ছয় ঘণ্টা ধরে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে।
আলোচনায় ফিরে না এলে ইরানকে আরও সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে—ট্রাম্পের এমন সতর্কবার্তার পরই এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাগুলো ঘটে।
ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবফ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, দেশটির কোনো উপকারে আসে না—এমন কোনো চুক্তি মেনে চলার কোনো কারণ তেহরানের নেই।