ইরানে রাতভর মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত আটজন নিহত হওয়ার পর এর প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে অবস্থানরত বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক বিমান ও ড্রোনে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই জর্ডানের সামরিক বাহিনী তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা দাবি করল ইরান।
এক বিবৃতিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে এবং আরও অনেকগুলো বিমান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি জানিয়েছে যে তারা ইরানি সেনা নিহতের প্রতিশোধ হিসেবে সিরিয়ার আল-তানফে অবস্থিত মার্কিন বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারেও হামলা চালিয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সিরিয়া সরকার বা মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সামরিক বাহিনী গত ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিল, তারা সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাকের ত্রিদেশীয় সীমান্তের সংযোগস্থলে অবস্থিত আল-তানফ ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে।
এদিকে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের ইরবিল ও সুলাইমানিয়ায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইরানি কুর্দি ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠী কোমালাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এছাড়া তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কাতারসহ অন্যান্য দেশে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধন প্ল্যান্টের ক্ষতিসাধন করেছে।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত কয়েক দিন ধরে একে অপরের ওপর হামলা-পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত হানার যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তার অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা আরও জোরদার করেছে। তারা বেশ কয়েকটি সেতু ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে এবং ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের টাওয়ার ধসিয়ে দিয়েছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ও দ্বীপগুলো মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে। আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দাস্তি, বোস্তান, সিরিক এবং বন্দর-ই-লেঙ্গায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বন্দর-ই-খামিরে শহরের কাছের তিনটি সেতুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং বন্দর আব্বাসেও বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।
হরমোজগান প্রদেশে সড়ক ও রেলপথ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে।
ইরানশাহরে একটি বিমানবন্দরে হামলার কারণে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে এবং আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী কিশ দ্বীপে বিমান হামলার ফলে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবারের হামলায় নতুন করে হতাহতসহ মার্কিন হামলায় এ পর্যন্ত ডজনখানেক মানুষ নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।