যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই গভীর হচ্ছে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট। মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার রেকর্ড দরপতন, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে কঠিন হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাব যোগ হয়ে আবারও চাপের মুখে দেশটির অর্থনীতি।
দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার সমস্যার সঙ্গে যোগ হয়েছে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব। গত মাসে ইরানে মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে প্রায় ৯০ শতাংশে। আগের বছরের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ১৩৪ শতাংশ পর্যন্ত।
দেশটির মুদ্রার মানেও রেকর্ড পরিমাণ ধস নেমেছে। এক মার্কিন ডলারের দাম এখন ১৯ লাখ রিয়ালেরও বেশি। বাড়িভাড়া থেকে শুরু করে চিকিৎসার খরচ বাড়ার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বন্দর, বিমানবন্দর, সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল-গ্যাস স্থাপনা এবং শিল্প অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন নিয়মিত ঘটনা।
শুধু অর্থনীতি নয়, স্বাভাবিক জীবনযাপনেও প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে একাধিকবার বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট। ব্যাংকিং ব্যবস্থাতেও তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই চাপ কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।