বেশ কিছু বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ আল জাজিরা এসব তথ্য জানিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে বড় ধরনের আইনি পরাজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে সাময়িক শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তার মেয়াদ শুক্রবার শেষ হতে চলেছে।
প্রতিবেদন বলছে, ঠিক এই সময়েই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বহু বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন করে দুই অঙ্কের (১০ শতাংশ বা তার বেশি) শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ৬০টি দেশের আমদানিপণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে—এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯ শতাংশের জোগান দেয়।
অভিযোগ করা হয়েছে, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কঠোরতা দেখায়নি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং তা কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়; আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদেরও একই পদক্ষেপ নেওয়ার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।”
তিনি বলেন,“আজকের এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বাণিজ্য বিকৃতকারী—উভয় ধরনের কর্মকাণ্ড সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং এর মাধ্যমে সব জায়গার শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি হবে।”
ওয়াশিংটন ডিসিতে শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে বিশ্বব্যাপী আরোপিত সাময়িক ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই নতুন শুল্কগুলো কার্যকর হবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট সবচেয়ে বড় ও সাহসী শুল্ক পদক্ষেপটি বাতিল করে দেওয়ার পর ট্রাম্প সাময়িক শুল্ক আরোপের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
এখন তিনি ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারার আওতায় আরও দীর্ঘস্থায়ী শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছেন। এই ধারাটি প্রেসিডেন্টকে এমন সব দেশের বিরুদ্ধে আমদানি কর ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেয়, যারা “অযৌক্তিক”, “অন্যায্য” বা “বৈষম্যমূলক” বাণিজ্য চর্চায় লিপ্ত বলে প্রমাণিত হয়।
নিজের প্রথম মেয়াদে চীনের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ৩০১ নম্বর ধারাটি ব্যবহার করেছিলেন এবং সেই পদক্ষেপ আদালতের চ্যালেঞ্জেও টিকে গিয়েছিল।



