বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ ১৩টি দেশ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নৌ সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। এই জোটের উদ্দেশ্য বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সম্মিলিত সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার একটি কাঠামো হিসেবে ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জোটের চুক্তিপত্রে সই করা দেশগুলো হলো সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান এবং কোমোরোস।
বিবৃতিতে বলা হয়, জোটভুক্ত দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি জলপথে মুক্ত নৌ চলাচল নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক করিডোরটি ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যেই এই পদক্ষেপ সামনে এল।
বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংঘাত শুরুর পর ইরান রুটটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, এতে বিশ্ব অর্থনীতি চরম চাপে পড়েছে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলার মুখে পড়েছে বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরীয় অঞ্চল। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি রপ্তানিতে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জোট গঠনের সম্মেলনে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলও অন্তর্ভুক্ত ছিল। লোহিত সাগরে ‘অ্যাসপাইডস’ নামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি নৌ সুরক্ষা মিশন চালু রয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন জোটটি এর চেয়ে কতটা আলাদা হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, ইরান-কেন্দ্রিক এই সংঘাতের মধ্যে একই ধরনের নিরাপত্তা লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান এই জোটে যোগ দিতে চুক্তিতে সই করেনি।
সৌদি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অন্যান্য দেশের জন্যও এই জোটের চার্টারে যোগদানের পথ উন্মুক্ত থাকবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এই বিশ্বাসে ঐকমত্য পোষণ করে যে—সামুদ্রিক নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব। আন্তরাষ্ট্রীয় এবং সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ই প্রধান ভিত্তি।
কোন দেশ কী পরিমাণ যুদ্ধজাহাজ বা বিমান পাঠাবে, তা বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে এই জোটের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং যৌথ সামরিক মহড়া ও অভিযান পরিচালনা।
একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই জোট পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক উদ্যোগ এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে গঠিত হয়নি।
সৌদি আরবকে এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং প্রধান কার্যালয়ের আয়োজক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যদিও কার্যালয়ের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।