হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চালাচলের পথ নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতার পর চূড়ান্ত একটি চুক্তির পথে ইরান ও ওমান। মতভেদ থাকা বিষয়গুলো পর্যালোচনার পর শিগগিরই চুক্তি ঘোষণা করা হতে পারে। আর প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী চুক্তি হলে এই জলপথে প্রবেশ করা জাহাজগুলো নিয়ন্ত্রণ এবং এগুলোর কাছ থেকে সেবা ফি আদায়ের সুযোগ তেহরানের হাতে থাকবে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে তেহরান। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন করা হতো।
হরমুজ বন্ধ থাকায় অস্থির হয়ে ওঠে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার। এতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে উল্টো চাপে পড়ে ওয়াশিংটন। এমন পরিস্থিতিতে প্রণালিটি চালু করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত জুলাইয়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল, তার মূলেও ছিল এই হরমুজ প্রণালি। এরপরও তেহরানকে পিছু হটাতে পারেনি ওয়াশিংটন। টোলের বিনিময়ে ইরানের নিয়ন্ত্রিত পথ দিয়ে হরমুজে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে অনড় তেহরান। শর্ত না মানায় ইরানি বিপ্লবী বাহিনীর হামলার শিকার হয় একাধিক জাহাজ।
হরমুজ সংকট মোকাবিলায় আলোচনায় বসে ইরান ও ওমান। হরমুজে টোল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল মাথাব্যথা থাকলেও এ আলোচনায় রাখা হয়নি মার্কিন কোন প্রতিনিধিকে।
অবশেষে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চালাচলের পথ নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতার পর ৬০ দিনের জন্য জলপথ খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান ও ওমান। মতভেদ থাকা বিষয়গুলো পর্যালোচনার পর শিগগিরই চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত চুক্তি হলে এই জলপথে প্রবেশ করা জাহাজগুলো নিয়ন্ত্রণ ও সেবা ফি নেয়ার সুযোগ তেহরানের হাতে থাকবে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। সেইসাথে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজকে হরমুজ প্রণালিতে আটকে দেওয়ার শর্ত খসড়া প্রস্তাবে রাখা হয়েছে বলে সুত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
হরমুজে প্রবেশ করা জাহাজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ থাকার অর্থ হলো আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যে তেহরানের হাত আরও শক্তিশালী হওয়া। পাঁচ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে তেহরানের একটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক জয়ও এটি। কেননা যুদ্ধের আগে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল না ইরানের, সেইসাথে দিতে হতো না কোন টোল।