যুদ্ধের ময়দানে গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই যদি যুদ্ধ থামানোর রাস্তা খুঁজতে হয়—তাহলে বুঝতে হবে পরিস্থিতি কতটা কঠিন! ইরানের বিরুদ্ধে ছয় মাসের যুদ্ধ। শুরুতে বলা হয়েছিল, কয়েক সপ্তাহেই তেহরানকে চাপে ফেলে লক্ষ্য অর্জন করবে আমেরিকা। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই বদলে গেছে হিসাব। এবার সেই হিসাবের ভয়ংকর দিক সামনে আনলেন খোদ আমেরিকার শীর্ষ জেনারেল।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন নাকি ট্রাম্প প্রশাসনকে বলেছেন—এই যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার একটা পথ খুঁজতে হবে। কারণ সামনে থাকা সামরিক বিকল্পগুলো যতটা ভয়ংকর, তার পরিণতি হতে পারে তার চেয়েও ভয়ংকর!
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনসহ একাধিক গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, জেনারেল ড্যান কেইন গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি শুধু নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেননি; বরং যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার সম্ভাব্য পথ নিয়েও আলোচনা করেছেন।
একটি সূত্র সরাসরি বলেছে—কেইন এখন যুদ্ধের আরও গভীরে যাওয়ার বদলে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজছেন। আর এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ—শুধু বিমান হামলা দিয়ে ইরানকে ট্রাম্পের শর্ত মানানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সামরিক পর্যায়েই তৈরি হয়েছে সন্দেহ।
ট্রাম্পের হিসাব ছিল, আকাশ থেকে একের পর এক হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে দুর্বল করা হবে, তারপর তেহরানকে আলোচনার টেবিলে এনে নিজেদের শর্ত মানানো যাবে। কিন্তু ছয় মাস পর সেই কৌশল কতটা কাজ করেছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
জেনারেল কেইন সম্প্রতি প্রকাশ্য শুনানিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন—বিমান হামলার শক্তিরও সীমা আছে। আর এই সীমাবদ্ধতার কারণেই জুলাইয়ের শেষ দিকে ট্রাম্প বড় ধরনের অভিযানের দিকে এগোলেও শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার পর পিছিয়ে আসেন।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আমেরিকার জন্য আরেকটি বড় বিপদ তৈরি হয়েছে যুদ্ধের অস্ত্রের মজুত নিয়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন গোলাবারুদের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এমনকি জেনারেল কেইন সাম্প্রতিক অন্তত দুইটি বৈঠকে ট্রাম্পের সামনে এই অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলেছেন। অর্থাৎ, আমেরিকার হাতে শক্তিশালী অস্ত্র আছে—কিন্তু দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সেই অস্ত্রের মজুত কতটা টেকসই, সেটিও এখন বিবেচনায় আসছে। যুদ্ধের মাঝপথে এসব ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, পরিস্থিতি কতটা জটিল হয়ে উঠেছে।
একদিকে ইরানের ওপর আরও চাপ দেওয়ার প্রস্তুতি, আর অন্যদিকে খোদ মার্কিন জেনারেলই যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজছেন। ছয় মাস আগে যে যুদ্ধকে দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা ছিল, সেটিই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য হয়ে উঠেছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরীক্ষা।
আর এই পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আমেরিকা কি ইরানকে নিজের শর্তে নত করতে পারবে, নাকি শেষ পর্যন্ত এমন একটি সমঝোতাই করতে হবে, যেখানে আমেরিকারই হার মানার পরিস্থিতি হবে? ইরান যুদ্ধের পরবর্তী অধ্যায় এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়—ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের টেবিলেই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।