যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। এর ফলে এক দেশে আক্রমণ হলে বাকি ২ দেশে হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। শুক্রবার মক্কায় ৩ দেশের নেতারা এ চুক্তিতে সই করেন। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে চুক্তিটির মাধ্যমে নিরাপত্তা সহযোগিতা গভীর করলো তিন দেশ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। শুক্রবার মক্কায় চুক্তিতে সই করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৩ দেশের যে কোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে, তা বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। প্রায় এক বছর আলোচনার পর চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে।
পাকিস্তান কয়েক দশক ধরে সৌদি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে তুরস্ক-পাকিস্তান যুদ্ধজাহাজ ও প্রশিক্ষণ বিমান বিনিময় করেছে। এর আগে, ২০২৩ সালে তুরস্কের ড্রোন কিনতে সম্মত হয় রিয়াদ, যাকে আঙ্কারা তাদের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি বলে অভিহিত করে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে- এ চুক্তি মূলত ৩টি বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করেছে, যা এ অঞ্চলে একটি ভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামোর সূচনা করেছে। যেখানে পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার, অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনী এবং যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করবে। ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের রয়েছে উন্নত ড্রোন ও যুদ্ধাস্ত্র। আর সৌদি আরবের আছে অর্থনৈতিক শক্তি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরক্ষামূলক হলেও এ ধরনের চুক্তি অন্য ক্ষেত্রেও সুবিধা দেয়। বিশেষ করে, রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে বলেও মত তাদের। এর আগে ২০২৫ সালে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা দেয় সৌদি আরব ও পাকিস্তান।



