‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ অবস্থা থেকে বের হতে চায় ইরান। শনিবার এমনটাই জানিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সাথে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলে আশা তাঁর। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানলে হরমুজ চালু হবে না বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। আর হরমুজে কোনো টোল আরোপের পরিকল্পনা তেহরানের নেই বলে দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
৫ মাসে বেশ কয়েক দফা আলোচনার পরও শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র। আর এর জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে তেহরান–ওয়াশিংটন।
এ অবস্থায়, ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ অবস্থা থেকে বের হতে চায় ইরান। শনিবার এমনটাই জানিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘প্রতিটি সমঝোতা স্মারকেই লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। যুদ্ধ করার পরিবর্তে লঙ্ঘনগুলো মোকাবিলার জন্য একটি দল গঠন করা উচিত ছিল। আমাদের দেখতে হবে এখন কীভাবে তা সমাধান করা যায়, যদি কোনো সমাধান সম্ভব হয়, যা নিয়ে বর্তমানে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে চাই, যার মাধ্যমে না যুদ্ধ, না শান্তি অবস্থা থেকে বের হতে পারব।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র শর্ত পূরণ না করলে হরমুজ প্রণালি চালু হবে না বলে জানিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার মোহেবি। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
হরমুজে একটি অস্থায়ী নৌপথ নিয়ে ইরান ও ওমান চুক্তির খুব কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ‘ওমানের সাথে আলোচনাটি একটি অস্থায়ী পথ নিয়ে। আমরা চূড়ান্ত ফলাফলের খুব কাছাকাছি। এ পথ নির্ধারণের অর্থ এই নয় যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। সেটি অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। বর্তমান পরিস্থিতি তাদের সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনেরই ফল।’
অন্যদিকে, হরমুজে কোনো টোল আরোপের পরিকল্পনা তেহরানের নেই বলে দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। এই জলপথে হামলা বন্ধের বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায়ের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।