মক্কা চুক্তির পরদিনই সৌদিতে বড় বিস্ফোরণ!

মক্কায় তিন দেশের সামরিক জোট। সৌদি আরব, পাকিস্তান আর তুরস্ক—একসঙ্গে ঘোষণা করল, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা মানে তিন দেশের ওপরই হামলা! কিন্তু চুক্তির কালি শুকানোর আগেই সৌদিতে বিস্ফোরণ! জুবাইল—সৌদি আরবের বিশাল শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র। হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ। তারপর আগুন। প্রশ্ন উঠছে—এটা কি শুধুই একটি দুর্ঘটনা? নাকি নতুন সামরিক জোটকে দেওয়া প্রথম সতর্কবার্তা?

আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলছে, জুবাইল ইন্ডিয়াষ্ট্রিয়াল সিটির একটি গ্যাস স্থাপনায় হামলা হতে পারে। ইসরায়েলি মিডিয়ার দাবি—এর পেছনে থাকতে পারে ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী। শুধু জুবাইল নয়; একই দিনে জিজানে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনাতেও আগুনের খবর আসে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কোনো হতাহতের খবর নেই। কিন্তু এই আগুনের কারণ এখনো অজানা। আর এই দুই ঘটনার সময়টাই তৈরি করছে সবচেয়ে বড় রহস্য।

শনিবার মক্কায় বসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। সই হয় ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’। চুক্তির ভাষা সরাসরি—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ সৌদিতে বড় হামলা হলে পাকিস্তান ও তুরস্কও বিষয়টি নিজেদের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখবে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছে। আর ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী এরই মধ্যে সৌদির জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক নৌপথ নিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে জুবাইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে বিস্ফোরণ নিছক ছোট ঘটনা নয়। জুবাইল শুধু একটি শহর নয়—সৌদি আরবের বিশাল গ্যাস, তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল অবকাঠামোর অন্যতম কেন্দ্র। সেখানে হামলার আশঙ্কাই তাই পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন আতঙ্ক বাড়িয়েছে।

আর সবচেয়ে বড় বিষয়—সৌদি আরব এখন আগের মতো শুধু আমেরিকার নিরাপত্তাছাতার ওপর নির্ভর করতে চাইছে না। পাকিস্তান আনছে সামরিক শক্তি ও জনবল; তুরস্ক আনছে দ্রুত বিকাশমান প্রতিরক্ষা শিল্প; আর সৌদি আরব দিচ্ছে বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি।

কিন্তু ঠিক এই সময়েই সৌদির জ্বালানি অবকাঠামোয় বিস্ফোরণ যেন এক ভয়ংকর বার্তার ইঙ্গিত। কেউ কি তাহলে নতুন জোটের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করছে? নাকি জোট ঘোষণার সময়টাকেই কাজে লাগিয়ে কোনো পক্ষ শক্তির বার্তা দিতে চাইছে? আর যদি শেষ পর্যন্ত তদন্তে প্রমাণ হয় জুবাইলের ঘটনাটি সত্যিই কোনো হামলা ছিল—তাহলে সেটিই হতে পারে মক্কা চুক্তির প্রথম বড় নিরাপত্তা পরীক্ষা। তখন কি সৌদির সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্কও মাঠে নামবে? নাকি তিন দেশ কূটনৈতিক পথেই জবাব দেবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।