যুদ্ধের ময়দানে নতুন এক ঘোষণা দিয়ে আলোড়ন তুলেছে ইরান। মার্কিন সেনাকে জীবিত আটক বা হত্যার ক্ষেত্রে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান। আর নারীদের ক্ষেত্রে সেই পুরস্কার নাকি দ্বিগুণ হবে—অর্থাৎ ৬০ হাজার ডলার!
যুদ্ধ যখন হরমুজ ঘিরে আরও জটিল হয়ে উঠছে, তখন ইরানের এই ঘোষণা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এটা কি শুধু পুরস্কার ঘোষণা, নাকি যুদ্ধের কৌশলেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত? আর এই ঘোষণার পর আমেরিকাই-বা কী পদক্ষেপ নেবে?
ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি বলেছেন, ‘কোনো ইরানি নাগরিক যদি কোনো মার্কিন সামরিক সদস্যকে আটক করে হস্তান্তর করেন অথবা হত্যা করেন, তাহলে তাঁকে দেওয়া হবে ৩০ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫ বিলিয়ন তুমান।’
তিনি দাবি করেছেন, এই পরিকল্পনায় অংশ নেওয়ার জন্য বিপুলসংখ্যক অনুরোধ আসার পরই এমন পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, হাতামির বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ইরানি নারী এমন কাজ করলে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে ৬০ হাজার ডলার হতে পারে।
আর এই ঘোষণার সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জুনে যে অস্থায়ী সমঝোতা হয়েছিল, তার ৬০ দিনের সময়সীমা এখন শেষ হওয়ার পথে। কিন্তু সেই সমঝোতা অনুযায়ী স্থায়ী সমাধানের আলোচনা এগোয়নি। বরং হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা, সামরিক চাপ এবং বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের সেনাপ্রধান একই সঙ্গে দাবি করেছেন, যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি নিয়ে করা বিভিন্ন দাবি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আর পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের অনুমতি নেই।
ইরানের এই ঘোষণা অবশ্য একেবারে নতুন ধরনের বক্তব্য নয়। এর আগেও দেশটির কিছু কর্মকর্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে পুরস্কারের কথা বলেছেন। তবে এবার ঘোষণা সরাসরি মার্কিন সামরিক সদস্যদের ঘিরে। যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে তাঁদের কেউই ইরানের ভেতরে স্থলযুদ্ধে নিহত হননি; বিভিন্ন দেশের ঘটনাতেই তাঁদের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আর এখানেই ইরানের নতুন ঘোষণার তাৎপর্য আরও বেড়ে যাচ্ছে। কারণ, ইরানের ভেতরে বড় আকারে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের তথ্য না থাকলেও দেশটি এমন বার্তা দিচ্ছে, যেন মার্কিন সামরিক সদস্যরা যেখানেই থাকুক, সেখানেই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়।
৩০ হাজার ডলারের এই ঘোষণা শুধু অর্থের অঙ্ক নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইরানের মানসিক চাপ তৈরির কৌশল এবং যুদ্ধের রাজনৈতিক বার্তা। হরমুজ নিয়ে যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান আরও কঠিন হচ্ছে, তখন এমন ঘোষণা সংঘাতকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে। আর সবচেয়ে বড় বিষয়—যুদ্ধ থামানোর আলোচনা যখন কার্যত অচল, তখন ইরানের এই নতুন বার্তা দেখিয়ে দিচ্ছে, সংঘাত শেষ করার চেয়ে দুই পক্ষই এখন চাপ বাড়ানোর পথেই এগোচ্ছে।