বড় হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

যেকোনো ধরনের আক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের শীর্ষস্থানীয় পদগুলো। উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এদিকে মার্কিন স্থল অভিযানের শঙ্কা ঘিরে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে আইআরজিসিও। রয়টার্স জানিয়েছে এ খবর।

 প্রায় ৬ মাস লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর গত সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে যোগ দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে, সবাইকে এক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা পদগুলোতে একঝাঁক কট্টরপন্থি ও প্রবীণ সামরিক কমান্ডারকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। মোহসেন রেজাইকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান করা হয়েছে। ইরান-ইরাক যুদ্ধে আইআরজিসির নেতৃত্ব ছিলো তার কাঁধেই।  

রদবদলের আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর নতুন জেনারেল স্টাফ, রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রধান এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের নৌবাহিনীর কমান্ডারও নতুনভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় নেতা ও সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হোসেইন তায়েবকে বাসিজ বাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই রদবদল যুদ্ধ মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান এমন এক পথ খুঁজছে, যাতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া না করেই যুদ্ধ শেষ করা যায়।

এদিকে, মার্কিন স্থল অভিযানের শঙ্কায় যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আইআরজিসি। এতদিন পর্যন্ত আত্মরক্ষামূলক কৌশল থাকলেও এবার শত্রুর ওপর সরাসরি আক্রমণের ছকও কষছে বাহিনী।

তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ইরানের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে বাধ্য। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে  তুলতে এরইমধ্যে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে অন্যান্য দেশ।