২০ লাখ রিয়ালে কিনতে হচ্ছে ১টি ডলার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইরান। রেকর্ড দরপতন ঘটেছে রিয়ালের। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এই দুরবস্থা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ছয় মাস পূর্তিতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। শান্তি আলোচনা স্থবির হওয়ার পাশাপাশি কঠোর নিষেধাজ্ঞার চাপে দেশটির অর্থনীতি এখন ধ্বংসের মুখে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের ইতিহাসে সর্বনিম্ন দরপতন ঘটেছে। খোলা বাজারে ডলারের বিনিময় হার প্রায় ২০ লাখ রিয়ালে পৌঁছেছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় প্রাণহানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি। তবে হুমকির মুখেও নিজেদের কৌশলগত অবস্থানে অনড় রয়েছে তেহরান।

ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ হামলায় নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী বড় ধরনের বিপর্যয়ের শিকার হলেও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্তেও এখনো অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে দেশটির নেতারা।

একদিকে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে তেলের দাম। আর অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা আর যুদ্ধের কারণে ইরানের সঙ্গে গোটা বিশ্ব অর্থনীতিই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি এই যুদ্ধ গোটা মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে খাদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যার পরিণতি ভোগ করতে হবে গোটা বিশ্বকে।