ইরানকে একঘরে করতে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেল খাতসহ ইরানের সব ধরনের আয়ের উৎস বন্ধ করা এবং অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা থেকে বিরত রাখাই এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য। এদিকে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ হবে জানিয়ে, দুই বছরের পরিকল্পনা নিয়ে তেহরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের অর্থমন্ত্রী। খবর রয়টার্সের।
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে সামরিক অভিযান ও হুমকির পর এবার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পথ বেছে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘তেল খাতসহ ইরানের সব ধরনের আয়ের উৎস বন্ধ করা এবং অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা থেকে বিরত রাখাই এই অভিযানের লক্ষ্য।’ একে তিনি অর্থনৈতিক ডি-ডে হিসেবেও উল্লেখ করেন।
স্কট বেসেন্ট আরও বলেন, ‘মার্কিন অর্থ বিভাগ ইরানের তেল চোরাচালান এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারে এমন প্রতিটি কেন্দ্র, প্রত্যেক সহায়তাকারী এবং প্রত্যেক নেটওয়ার্কের নকশা তৈরি করেছে। আজ থেকে আমরা আইআরজিসি এবং ইরানি শাসনব্যবস্থাকে অর্থায়নকারী প্রতিটি সম্ভাব্য উৎস বন্ধ করে দেব। যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ চালানোর সক্ষমতা পুনর্গঠনে এই শাসনব্যবস্থাকে ন্যূনতম কোনো অবকাশও দেওয়া হবে না।’
নতুন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতকে লক্ষ্য করা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তালিকায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, হংকং, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি।
তবে মার্কিন চাপকে গুরুত্ব দিচ্ছে না তেহরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির দাবি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানের জন্য নতুন কিছু নয়; নতুন কোনো সমাধান না থাকায় পুরোনো পরিকল্পনাই বারবার সামনে আনা হচ্ছে।
ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহও পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তেহরান প্রস্তুত।’
এদিকে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ হবে জানিয়ে, দুই বছরের পরিকল্পনা নিয়ে ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের অর্থমন্ত্রী।
আলি মাদানিজাদেহ আরও বলেন, ‘তারা ইরানি জনগণ ও কর্মকর্তাদের দৃঢ়তা বারবার পরীক্ষা করে ব্যর্থ হয়েছে। এবারও ব্যর্থ হবে। তবে মার্কিন পরিকল্পনা সম্পর্কে আমরা আগে থেকেই জানতাম এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ২ বছরের পরিকল্পনাসহ পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।’
মার্কিন পদক্ষেপকে লোকদেখানো আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন সিনেটর ক্রিস মারফি। তার দাবি, এর মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের।



