ইরানকে ঘিরে বদলাতে পারে মধ্যপ্রাচ্য। আলোচনায় মক্কা চুক্তিতে তেহরানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ। আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না পেলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপে রাজি ইরান। এই চুক্তির ফলে কমতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাব। আর ইরানের অন্তর্ভুক্তিতে অনিশ্চয়তায় পড়বে ইসরায়েল। তবে প্রতিরক্ষা ছাড়াও আঞ্চলিক নতুন কাঠামোর ভিত্তি হতে পারে মক্কা চুক্তি।
ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি মধ্যপ্রাচ্য। এরই মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তান।
মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনাধীন বলে জানান ইরানের সংসদীয় সংবাদসংস্থার প্রধান। একে অংশগ্রহণের নয়, নিরাপত্তা সংলাপের প্রস্তাব বলছে পররাষ্ট্র দপ্তর।
ইরানের অন্তর্ভুক্তি বদলাতে পারে চুক্তির চরিত্র। তৈরি হবে সৌদি-ইরান উত্তেজনা কমানো, তুরস্কের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা সম্প্রসারণ ও উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তার নতুন কাঠামো।
একচেটিয়া প্রভাব কমবে যুক্তরাষ্ট্রের। নিজেদের মধ্যে বাড়বে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ার প্রবণতা। কারণ এই যুদ্ধে ইরানি হামলায় ঝুঁকিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বাণিজ্য ও জ্বালানি অবকাঠামো। ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা বলয়ে থাকলেও যে সংঘাতে আক্রান্ত হওয়া অনিবার্য, সেটা স্পষ্ট। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক রেখে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা তাদের।
ইরান যুক্ত হলে প্রয়োজন সংঘাত এড়ানো, তথ্য বিনিময় ও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতের সুস্পষ্ট কাঠামো। তবে প্রশ্ন উঠবে তেহরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে। আর তা নিয়েই দরকষাকষি করবে ইরান ও জোট সদস্যরা।
চুক্তিতে আছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। সৌদি আরবের পুঁজি, তুরস্কের সক্ষমতা, পাকিস্তানের বাজার এবং ইরানের জ্বালানি ও ট্রানজিট—সম্মিলিত সহযোগিতায় তৈরি হতে পারে নতুন বাণিজ্য ও পরিবহন করিডোর। মধ্য এশিয়া থেকে পারস্য উপসাগর আর ভূমধ্যসাগর থেকে ভারত মহাসাগর ঘিরে বাড়বে আঞ্চলিক যোগাযোগ। অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থের কেন্দ্র হবে হরমুজ প্রণালী।
তবে অনিশ্চয়তায় থাকছে ইসরায়েল। তেহরানের অন্তর্ভুক্তি দেখা হবে তেল আবিবকে কৌশলগতভাবে ঘেরাও করার চেষ্টা হিসেবে। একইভাবে, ইসরায়েলসহ অন্য দেশের সামরিক সংঘাত ঠেকানোর ক্ষমতাও রাখবে এই জোট।
তাই এখনই মক্কা চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ব্যবস্থা বলা কঠিন। ইরানের অন্তর্ভুক্তিতে পারস্পরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়লেই কেবল নিজস্ব কাঠামো পাবে মধ্যপ্রাচ্য। যেখানে মতপার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাথে থাকবে সংঘাত এড়ানোর সম্ভাবনা।