ভারত থেকে পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়ল ককরোচ জ্বর

ভারত থেকে ‘ককরোচ’ পার্টি নিয়ে উন্মাদনা সীমান্ত পার হয়ে পাকিস্তানেও ঢুকে পড়েছে। ভারতে গত কদিনে অনেক আলোচনার জন্ম দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পাকিস্তানেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক অ্যাকাউন্ট দেখা গেছে।

ককরোচ বা তেলাপোকা পুরোপুরি দূর করা কঠিন, দ্রুত বংশবৃদ্ধিও করে। একই ভাবে ভারতে এক রাজনৈতিক আন্দোলন - যা মজার ছলে শুরু হয়েছিল, তা এখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং এর দেখাদেখি পাকিস্তানেও উন্মাদনা শুরু হয়েছে। সেখানে তৈরি হয়েছে ককরোচ আওয়ামী পার্টি (সিএপি) ও ককরোচ আওয়ামী লীগ (সিএএল)।

ভারতে কদিন আগে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জন্ম নেয় ভারতের চিফ জাস্টিস সুর্য কান্তের এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়। তিনি বলেছিলেন, বেকার যুবকরা ‘ককরোচ’ এবং ‘প্যারাসাইট’ এর মতো। যদিও পরে চিফ জাস্টিস বিষয়টি পরিষ্কার করেন, কিন্তু তার আগেই ঝড় শুরু হয়ে যায়।

এই মন্তব্যকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পাবলিক রিলেশনস গ্রাজুয়েট এবং প্রাক্তন আম আদমি পার্টির সহযোগী অভিজিৎ দীপকে গত ১৬ মে সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্লেষাত্মক কার্যক্রম হিসেবেই সিজেপি-র যাত্রা শুরু করেন এবং গুগল ফর্মের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহের আয়োজন করেন। ‘হ্যাঁ, আমি ককরোচ। চিফ জাস্টিস ঠিক আমার কথা বলেছিলেন’ - অভিজিৎ এই পার্টি শুরু করার ব্যাখ্যায় বলেন ইন্ডিয়া টুডে টিভিতে।

কয়েক দিনের মধ্যেই সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেড় কোটির বেশি অনুসারী হয়ে যায়, যা ভারতীয় প্রধান দল বিজেপি ও কংগ্রেসের অফিসিয়াল হ্যান্ডেলকেও ছাড়িয়ে যায়।

সিজেপি নিজেকে ‘অলস ও বেকার’ যুবকদের কণ্ঠস্বর হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টের সঙ্গে বাস্তব রাজনৈতিক দাবিও যুক্ত করে। তাদের দাবির মধ্যে ছিল উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস এবং কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীলতা।

যদিও ভারত গত বৃহস্পতিবার সিজেপি-র এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয়, এটি দ্রুত নতুন হ্যান্ডেল খুলে ফিরে আসে এবং পোস্ট করে, ‘তোমরা ভেবেছ এতেই আমরা চলে যাব? এলওএল।’ দলটি এরই মধ্যে ট্রেডমার্ক আবেদনও করেছে এবং তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিপুল সাইন-আপ পেয়েছে বলে দাবি করছে।

অনলাইনে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় হিট হয়ে যাওয়া সিজেপি বিশ্ব মিডিয়ার নজর এড়ায়নি। এখন ককরোচ জ্বর পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়েছে।

 

পাকিস্তানে ককরোচ পার্টি তৈরি, প্রধান দলকে চ্যালেঞ্জ

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির পাকিস্তানি সংস্করণ অনলাইনে ধীরে ধীরে দেখা দিতে শুরু করে। এর প্রথম দিকের একটি ছিল ইনস্টাগ্রাম পেজ ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’। তারা সরাসরিই স্বীকার করে যে, তারা ভারতীয় আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে এবং তাদের বায়োতে লেখা - ‘হ্যাঁ এটা ওদের নকল, কিন্তু তাতে কী যায় আসে! আমাদের উদ্দেশ্য তো একই!’ অ্যাকাউন্টটিতে ইতোমধ্যেই ১,৬০০-এর বেশি অনুসারী হয়ে গেছে।

পাকিস্তানি অ্যাকাউন্টটি বলে, তারা ‘কোনো এক ব্যক্তি বা দলের সঙ্গে যুক্ত নয়’ এবং ‘পাকিস্তানের প্রতিটি জেনারেশন জেড-এর প্রকৃত কণ্ঠস্বর’ হয়ে উঠতে চায়। লোগো ভারতের সিজেপি-র মতো হলেও, তারা সবুজ-সাদা রঙ ব্যবহার করছে এবং ইমরান খান নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ, পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এন), পাকিস্তান পিপলস পার্টির মতো প্রধান দলগুলোর বিকল্প হিসেবে নিজেদের স্থাপন করছে।

এই অ্যাকাউন্টটি মূলত কনটেন্ট হিসেবে মিম এবং ছোট ভিডিও রিলস প্রকাশ করছে, যা আলাদা ক্রিয়েটরদের থেকে নিয়ে শেয়ার করছে তারা। অ্যাকাউন্টটি ২৮ মে তাদের নিজস্ব লক্ষ্য প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

‘ককরোচএপি’ নামের আরেকটি এক্স অ্যাকাউন্ট নিজেদের নিয়ে বলেছে, ‘সিস্টেম যাদের ককরোচ মনে করে, আমরা তাদেরই কণ্ঠস্বর।’

অন্য একটি পেজ ককরোচ আওয়ামী লীগ পাকিস্তান দাবি করছে এটি ‘ককরোচ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট।’ তারা একাউন্টে একটি উর্দু স্লোগান ব্যবহার করছে, যে স্লোগানটির বাংলা দাঁড়ায়, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমরা বেঁচে থাকি।’

যেখানে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির স্পষ্ট প্রতিষ্ঠাতা, ম্যানিফেস্টো এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইট আছে, পাকিস্তানি শাখাগুলো এখন পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন। একাধিক নির্মাতা নিজের মতো করে তাদের নিজস্ব সংস্করণ শুরু করেছে। পাকিস্তানি সংস্করণগুলো ককরোচকে সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে যুবকদের কর্মহীনতা, শাসন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর হতাশা ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রকাশ করছে।