গত ১৪ আগস্ট ছিল পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস। তবে বেলুচিস্তানের বড় অংশজুড়ে উৎসবের কোনো আমেজ ছিল না; বরং চরম থমথমে ও স্থবির পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম বেলুচিস্তান পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দিনটিতে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ ছিল। সাধারণ মানুষের চলাচলও ছিল চোখে পড়ার মতো কম। সেই সঙ্গে কোয়েটা, বোলান ও হারনাইয়ে একাধিক সশস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের দিনে কোয়েটাসহ বেলুচিস্তানের প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা ও বাজারের বেশিরভাগ দোকানপাট দিনভর বন্ধ রাখা হয়। মহাসড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিকের চেয়ে ছিল বেশ কম। স্থানীয় অধিবাসীদের একটি বড় অংশ নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প, সরকারি কার্যালয় ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর চারপাশে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মোতায়েন করা হয় বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য।
থমথমে পরিবেশের মধ্যেও কোয়েটা ও বেলুচিস্তানের কিছু নির্বাচিত স্থানে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর উদ্যোগে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পালিত হয়।
অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থান থেকে সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোয়েটার জারঘুন কলোনিতে ১৪ আগস্টের একটি অনুষ্ঠানে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একাধিক রকেট ও গ্রেনেড হামলা চালায়। স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি, এ সময় অন্তত আটটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বোলান জেলার এন-৬৫ মহাসড়কের কুম্ব্রি ব্রিজের কাছে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর পর পরই মহাসড়কে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া হারনাইয়ে বিস্ফোরক দিয়ে পুলিশের একটি তল্লাশিচৌকি উ উড়িয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
কেচ জেলার শহীদ ফিদা চকের কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলেন।
এদিকে বেলুচ ন্যাশনাল মুভমেন্টের (বিএনএম) চেয়ারম্যান ড. নাসিম বেলুচ এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সৃষ্টির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘যে অঞ্চলগুলো নিয়ে বর্তমান পাকিস্তান গঠিত হয়েছে, সেখানে দেশটির জন্মের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক আন্দোলন হয়নি। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতি, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব এবং ভারত ভাগের সময় রাজনৈতিক সমঝোতার ফলেই পাকিস্তানের জন্ম হয়েছে।’
তরুণ বেলুচদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কেবল মুসলিম লীগ বা ব্রিটেনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান সৃষ্টির ঘটনাকে দেখা উচিত নয়। এই বিভাজনের দায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসেরও ছিল, কারণ তারা শেষ পর্যন্ত ভারত ভাগ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছিল। দেশভাগ এই অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংস ডেকে এনেছে; পাঞ্জাব ও বাংলা বিভক্ত হয়েছে, লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের এই সিদ্ধান্ত সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে গেছে।’
পাকিস্তান সৃষ্টির পর তৈরি হওয়া ধারাবাহিক পরিস্থিতির চূড়ান্ত পরিণতিতেই বেলুচিস্তান তার স্বাধীনতা হারায় বলেও মন্তব্য করেন বিএনএম চেয়ারম্যান।