প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর ভেনেজুয়েলায় এখন কী হতে পারে?

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আমেরিকা তুলে নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির পরবর্তী পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, সংবিধান অনুযায়ী দেশটির শাসন ক্ষমতা এখন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের হাতে যাওয়ার কথা।

আমেরিকার এই পদক্ষেপে দেশটির শাসন ব্যবস্থা যে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে দেশটির ভেতরে ও বাইরে থাকা বিরোধীরা একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সরকার এখনও প্রেসিডেন্টের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত নয়। একইভাবে ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসের অবস্থান সম্পর্কেও তারা অন্ধকারে রয়েছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর বিরোধীরা দাবি করছেন, বর্তমানে নির্বাসিত রাজনীতিক এদমুন্দো গনসালেসই দেশটির বৈধ প্রেসিডেন্ট।

সিএনএন এই অনিশ্চয়তার মধ্যে কয়েকটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা সামনে এনেছে। প্রথমত, দেশটির সংবিধানের ২৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতিতে নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেবেন এবং ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করবেন। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পূর্ণ ছয় বছরের মেয়াদ পূরণ করবেন।

দ্বিতীয়ত, বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটতে পারে। বর্তমান সরকারের শীর্ষ নেতারা পদত্যাগ করতে পারেন বা দেশ ছাড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী বিকল্প নেতা হচ্ছেন এদমুন্দো গনসালেস উরুতিয়া, যিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং বর্তমানে স্পেনে নির্বাসনে আছেন। তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো।

তৃতীয়ত, সামরিক অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা। বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ আমেরিকার হামলার পর দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা তার ভূখণ্ডে বিদেশি সেনার উপস্থিতি প্রতিহত করবে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্টো প্রেসিডেন্টকে তুলে নেওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ জানিয়েছেন। টেলিগ্রামে এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘জনগণের শক্তির কাছে কোনো কাপুরুষোচিত হামলাই টিকবে না—শেষ পর্যন্ত জনগণই বিজয়ী হবে।’

অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড থেকে প্রেসিডেন্টকে তুলে নেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। আমেরিকার এই পদক্ষেপকে তারা ‘ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এমন কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার জন্য কোনো অজুহাতই গ্রহণযোগ্য নয়।