একের পর এক আগ্রাসী সিদ্ধান্ত আর ক্ষমতার প্রদর্শনে মাত্র এক বছরেই বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও সংঘাত বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর সংঘাত না থামিয়ে হামলা ও অস্বাভাবিক শুল্কারোপে ব্যস্ত ট্রাম্প। শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে কঠোর পদক্ষেপে কূটনীতির ভাষা বদলে দিয়েছেন তিনি।
ঠিক এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়ে স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থাকে মোটামুটি তছনছ করে দিয়েছেন তিনি। একের পর এক আগ্রাসী পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিকে এমন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসেই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন। তবে তিনি তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এ ছাড়া গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। উল্টো গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে একযোগে ইরানে সামরিক হামলা চালান ট্রাম্প।
এক বছরে বিশ্বব্যাপী অন্তত আটটি যুদ্ধ-সংঘাত বন্ধের কৃতিত্ব দাবি করেন ট্রাম্প। যদিও বাস্তবতা ভিন্ন। শুধু ইরানে হামলা নয়, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর দেশ থেকেই অপহরণ করে বিরল নজির স্থাপন করেন তিনি।
ন্যাটোর সদস্য ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিও বেশ কিছুদিন ধরে দিচ্ছেন ট্রাম্প। প্রতিবেশী মেক্সিকো ও কলম্বিয়াতে সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি শুরু হলে সেখানেও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অনেকে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোনো সাম্রাজ্যবাদী চেহারায় ফিরিয়ে নিচ্ছেন ট্রাম্প।
বাণিজ্যকেও কূটনীতির হাতিয়ার বানিয়েছেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালের এপ্রিলে শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে ১৫৭টি দেশের পণ্যে অস্বাভাবিক শুল্ক আরোপ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করেন জাতিসংঘের ৩১টির বেশি সংস্থাসহ অন্তত ৬৬টি সংস্থা থেকে।
শুধু অন্য দেশে নয়, নিজ দেশেও দমন-পীড়নের অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তাঁর আমলেই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবার টানা ৪৩ দিনের সরকারি অচলাবস্থা ছিল।