হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটি বলছে, দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি একটি কৌশলগত বার্তাও। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার লড়াই এখন প্রযুক্তি, খরচ এবং টিকে থাকার কৌশলের লড়াইয়ে পরিণত হচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার মধ্যেই সামনে এসেছে তেহরানের নতুন দাবি। দেশটি বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে সেটি কোনো পুরোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়, বরং ব্যবহার হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তির।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, কেশম দ্বীপের কাছে এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয় ‘আরাশ-ই কামাঙ্গির’ নামের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে। যা প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের দাবি করা হচ্ছে। আর একে ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে এই ঘটনার জোরালো কোনো প্রমাণ না মেলায় বিশ্লেষণ হয়ে উঠছে আরও জটিল। কারণ, এই ঘটনা শুধু একটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি নয়, বরং এমন একটি এলাকায় ঘটেছে, যেখানে সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাই কৌশলগত শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো মানে শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও পাঠানো। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জন্য এই ধরনের কম খরচের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আসলে প্রযুক্তিগত সমতার চেয়ে বেশি টিকে থাকার কৌশল।
বড় রাডার বা স্থির সিস্টেম ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, ছোট ও দ্রুত স্থানান্তরযোগ্য ইউনিটগুলোকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা অনেক বেশি কঠিন। এই কারণেই ড্রোনের মতো ধীরগতির কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি প্ল্যাটফর্ম এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা এখন শুধু আর একটি সামরিক দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, হরমুজ প্রণালিতে লড়াই এখন সরাসরি যুদ্ধের বাইরে গিয়ে প্রযুক্তি, খরচ এবং টিকে থাকার কৌশলের লড়াইয়ে পরিণত হচ্ছে।



