সরকারিভাবে ধান কেনায় চলমান নিয়মে প্রান্তিক কৃষকদের লাভের চাইতে ভোগান্তিই বেশি। একদিকে, সরকারি গুদামে ধান দেওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে নানা জটিলতা, অন্যদিকে, তাৎক্ষণিকভাবে মেলেনা টাকা।
এছাড়াও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ধান বিক্রির প্রক্রিয়া এখনো অনেকের কাছে অচেনা। আর এসবের মাঝখানে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, লাভের অঙ্ক যাচ্ছে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের পকেটে।
দিনাজপুরে এবার আমন ধান কেনা হবে ২ হাজার ৬৯১ টন। ২০ নভেম্বর থেকে সংগ্রহ শুরু হলেও নেই আশানুরূপ সাড়া। কৃষকরা বলছেন, যেখানে ব্যবসায়ীরা বাড়িতে এসে ধান সংগ্রহ করে, সেখানে সরকারকে ধান দিতে গিয়ে হেনস্তার মুখে পড়তে হয় তাদের। আবার ব্যাংকের মাধ্যমে দাম পরিশোধ করায় সময়মতো মেলেনা টাকা।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ‘সরকারের দামের ওপর নির্ধারণ করে ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে ধান কেনে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ধান নেয়।’
অন্য এক কৃষক বলেন, ‘সরকারকে যখন আমরা ধান দেব সঙ্গে সঙ্গে আমরা কোনো ক্যাশ পাই না।’
কুষ্টিয়াতে ৯২০ টন ধান ও ২২ হাজার টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য সরকারের। ধান-চাল সংগ্রহের এ লক্ষ্যমাত্রার বিস্তর ফারাক এবং জটিল প্রক্রিয়ার কারণে সরকারের ঘরে ধান দিতে অনিহা কৃষকদের। আবার সিন্ডিকেট ও মধ্যসত্ত্বভোগীদের কাছেও অসহায় তারা।
একজন কৃষক বলেন, ‘সরকারকে ধান নিতে হইলে চাষির দ্বারপ্রান্তে আসতে হবে। আমরা ধান মাড়াই করার পরে ধানের কোয়ালিটি যদি সরকারকে দেওয়ার মতো হয়, সরকার অগ্রীম করে যাবে। আমরা ধান পৌঁছাইয়া দেব। আমাদের টাকা সাথে সাথে দিয়ে দেবে।’
কুষ্টিয়ার খাদ্য কর্মকর্তা মো. আল-ওয়াজিউর রহমান বলেন, ‘তিন–চারটি সিজন ধরে আমরা কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করি। কৃষি বিভাগ আমাদের সহযোগিতা করছে। এবারও কিন্তু আমরা ভালো প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করছি।’
আগে ধান সংগ্রহের জন্য কৃষকের তালিকা করা হলেও, এখন তা হয় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। অনেক কৃষকই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ধান ক্রয়ের পদ্ধতি বোঝেন না। বরগুনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকদের অভিযোগ, এ বিষয়ে কোন প্রচারণা নেই কৃষি বিভাগের।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ‘এখন অ্যাপস হয়ে গেছে। এটা আমাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে গেছে। এই জিনিসটাকে সহজ করা আমাদের জন্য খুবই দরকার।’
আরেক কৃষক দুঃখ করে বলেন, ‘বাসমালিক–ট্রাকমালিক ওদের সংগঠন রয়েছে। কীভাবে ভাড়া বাড়াইতে হয় ওরা জানে। কিন্তু আমাদের কৃষকের তো এরকম সংগঠন নাই।’
হবিগঞ্জেও নানা জটিল প্রক্রিয়ার কারণে সরকারি গুদামে ধান দিতে অনীহা কৃষকদের। ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ ও পরিমাণ বৃদ্ধি করে সরাসরি প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার দাবি তাদের।