কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব হত্যার রহস্য উদঘাটন, খুলনা থেকে আনা হয় ভাড়াটে খুনি 

ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাছে ছুরি মেরে ও গুলি করে কলেজছাত্র কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম রাকিব হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

রাকিবুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– শিহাব, রাফিন, জয়, সাগর ও সালাউদ্দিন ওরফে সাকা। খুলনা, পটুয়াখালী ও গোপালগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন আল আমিনসহ অন্তত ৭ জন এখনো পলাতক।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সরাসরি হত্যা মিশনে অংশ নেন। শিহাব, জয় ও রাফিন রামদা ও ছুরি দিয়ে রাকিবকে কুপিয়েছেন। সাগর ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও এতে অংশ নেননি। পুরো ঘটনার সমন্বয়, অস্ত্র সরবরাহ ও সার্বিক পরিকল্পনা করেছিলেন সালাউদ্দিন ওরফে সাকা। আর গুলি করেন আল আমিন।

হত্যার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে ডিসি মাসুদ জানান, খুলনার ‘কুখ্যাত সন্ত্রাসী গ্রুপ বি কোম্পানীর’ শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাউদ্দিন ওরফে সাগর এই হত্যার নেতৃত্ব দেয়। ঘটনার ৩-৪ দিন আগে খুলনা থেকে ভাড়াটে খুনিরা ঢাকায় এসে কয়েকটি হোটেলে অবস্থান বসে করে হত্যার পরিকল্পনা করে।

ডিসি মাসুদ বলেন, ‘টিকটকার রাকিব হত্যার পেছনের কারণ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক। রাকিব বিবাহিত ছিলেন। তবে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তার। তাদেরই একজন জান্নাত ওরফে মুন, যার সঙ্গে রাকিব টিকটক ভিডিও বানাতেন। জান্নাতের স্বামী সাজিদ খুলনার একজন সন্দেহভাজন মাদক কারবারি। রাকিবের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা চলছিল এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি রাকিবকে হুমকি দিচ্ছিলেন। আমরা যা জানতে পেরেছি, সাজিদের মনে তীব্র ক্ষোভ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, খুলনার একটি গ্রুপ এই হামলার পরিকল্পনা করে। তারা ভাড়াটে খুনিদের এনে রাকিবকে হত্যা করান।’

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং দুজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।