টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। ফলে চরম দুর্ভোগে শ্রমজীবীসহ সাধারণ মানুষ। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তিতে মানুষ। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও বিপণিবিতান পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সাথে তাহিরপুরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জের সুরমা, জাদুকাটা, বৌলাই, রক্তিসহ বিভিন্ন নদীর পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে পানিতে তলিয়েছে শক্তিয়ারখলা ও আনোয়ারপুর সড়ক।
মৌলভীবাজারে ধলাই নদীর পুরাতন ভাঙ্গন দিয়ে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। কমলগঞ্জের ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের কিছু জায়গা জলাবদ্ধ। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ১০টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ। উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বন্যার শঙ্কা রয়েছে।
ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানি দ্রুত বাড়লেও নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, বলছে পাউবো।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, ‘ভারতের উজান এলাকায় বিশেষ করে খোয়াই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীগুলোর পানি দ্রুত বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। শুক্রবারের মধ্যে পানি কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উজানে আরও বৃষ্টিপাত হলে নদীর পানি বেড়ে কিছু নিম্নাঞ্চল বা বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
নীলফামারীতে তিনদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বাড়ার খবরে শঙ্কায় তিস্তা পাড়ের মানুষ।
পটুয়াখালীর উপকূলজুড়েও কয়েকদিন ধরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। শহর ও গ্রামের অনেক সড়কে পানি জমায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।