নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত, কোথাও কোথাও নদীভাঙন

উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এখনও পানিবন্দী কয়েক লাখ মানুষ। তলিয়ে আছে খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল। 

এদিকে, খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে তলিয়ে গেছে ১৫টি গ্রাম। এদিকে, নদী ভাঙন শুরু হয়েছে রংপুর ও লালমনিরহাটে। 

চট্টগ্রামে তিনদিন পর বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। তবে এখনও পানিবন্দি দক্ষিণ চট্টগ্রামের অসংখ্য মানুষ। তলিয়ে আছে বাঁশখালীর পশ্চিম গুনাগারি, বাহারছড়া, সাধনপুর, বাণীগ্রাম। বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই রান্নার ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন পানিবন্দিরা। 

বাঁশখালীর স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ৯১ সনের বন্যায়ও আমরা এরকম পানি দেখি নাই। রোডঘাট ডুবে গেছে। কারেন্ট বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমরা ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের খাবার দিতে পারছি না। 

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও রামুর অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত। দুর্ভোগে পানিবন্দী মানুষ। এদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রতিদিনই মাইকিং করা হচ্ছে। 

পানিবন্দী, খাগড়াছড়ির মেরুং ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের ৫ হাজার মানুষ। দীঘিনালা-লংগদুর সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ।

একজন পিকআপ চালক বলেন, মাল নিয়ে এসেছি। এখন দেখছি সামনের রাস্তায় পানি। এজন্য যাইতে পারতেছি না। এখানে আটকে রইছি। 

একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, এই বন্যার কারণে আজকে দুদিন যাবত রাস্তা প্লাবিত হয়ে গেছে। কোমর সমান পানি। 

এদিকে, ফেনীতে পানি কিছুটা কমলেও জেলা শহরে জলাবদ্ধতা তীব্র হয়েছে। ভারতের ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টি হলে মুহুরী ও সিলোনীয়া নদী উপচে আবারও বন্যার শঙ্কা রয়েছে।

পার্শ্ববর্তী সিলেট অঞ্চলেও গত দুদিন ধরে চলছে ভারী বর্ষণ। আছে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস।

হবিগঞ্জের লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এদিকে, হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। 

সুনামগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারার পানি বাড়ছে; পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুরের আনোয়ারপুর ও শক্তিয়ারখলা সড়ক ডুবে আছে। 
 
তাহিরপুর উপজেলার এক ব্যক্তি বলেন, আর এক থেকে দেড়হাত পানি হলে তা ঘরে ঢুকে যাবে। পানি এখনও বাড়ছে। 

সামগ্রিক পরিস্থিতে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, পুরো সুনামগঞ্জ জেলায় এক হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম আছে। ১২টি উপজেলায় আমরা জিআর চাল বিতরণ করে দিয়েছি। এই দুর্যোগের পর যদি প্রয়োজন হয় আমরা আবার বিতরণ করব। 

এদিকে, রংপুরের গঙ্গাচড়ায় শুরু হয়েছে নদীভাঙন।হুমকিতে আছে প্রায় ৫ হাজার পরিবার।  লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমলেও শঙ্কা কাটেনি নদী পাড়ের মানুষের।