শীত আসতে এখনও খানিকটা সময় বাকি। তবে এরমধ্যেই যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় পুরোদমে চলছে খেজুরের রস আহরণের প্রস্তুতি। উৎপাদনকারীরা বলছেন, সুপরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে খেজুরের রস ও গুড়কে লাভজনক করা সম্ভব। খেজুরের গুড়ের রাজধানী খ্যাত এই অঞ্চলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
যশোরের তেজরো গ্রামের ইসমাইল হোসেন প্রায় দু যুগ ধরে খেজুরের রস ও গুড় বিক্রি করছেন। বংশ পরম্পরায় পাওয়া এই পেশাই তার অর্থ উপার্যনের মাধ্যম।
কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, যশোরে খেজুর গাছ আছে ১৬ লাখ ৪১ হাজার। এর মধ্যে ৩ লাখ ৪২ হাজার থেকে রস আহরণ হয়। গাছিরা বলছেন, একটি গাছের রস দিয়ে এক মৌসুমে ৭ থেকে ৮ কেজি গুড় হয়।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সমরেন বিশ্বাস বলেন, ‘এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি রস ও গুড়ের ব্যবসা লাভজনক করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বছর যশোর থেকে ৩ হাজার ১০০ মেট্রিকটন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গার খেজুরের গুড়ের সুখ্যাতিও দেশজুড়ে। রস থেকে গুড় তৈরির পর তা যায় বিভিন্ন জেলায়। রস, গুড় ও পাটালি বেচাকেনা করেই আগামী ছয়মাস সংসার চালাবেন গাছিরা।
জেলায় গুড়ের হাট আছে দুটি। তবে, আধুনিকতার ছোয়ায় এখন অবশ্যই এই গুড় কেনা-বেচা হয় অনলাইনেও।