বরগুনার তালতলীতে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের জেরে উপজেলা বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের ১৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার তালতলী বাজারে এ সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নৌ-বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে লাঠিপেটা করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে তালতলীতে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত রোববার তালতলী বাজারের ব্যবসায়ী প্রতিবন্ধী আবুল কালামকে বেধড়ক মারধর করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল হক। এ ঘটনার বিচার চেয়ে গতকাল সোমবার বাজার কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুবুল আলম মামুনকে সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী আবুল কালাম।
ওই সংবাদ সম্মেলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে আহ্বায়ক শহিদুল হকের অনুসারীরা মানববন্ধন করে। এ সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের সমর্থকরা আহ্বায়ক শহিদুল হকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তখন ওই দুই গ্রুপ উত্তেজিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৬ নেতাকর্মী আহত হয়। পরবর্তীতে নৌবাহিনী সদস্যরা এসে লাঠিপেটা করে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, ‘দলের উপজেলা আহ্বায়ক শহিদুল হক প্রতি রোববার বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলেন। গত রোববার চাঁদা তুলতে গিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ী আবুল কালাম শিকদারকে মারধর করেন। এর প্রতিবাদে গতকাল সোমবার বাজার কমিটির সভাপতিসহ ভুক্তভোগী কালাম সিকদার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এর প্রতিবাদে আজ শহিদুল হক গ্রাম থেকে কিছু লোকজন এবং আওয়ামী লীগের লোকজন এনে মানববন্ধন করছিলেন। এ সময়ের বাজারে ব্যবসায়ীরা এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।’
তালতলী বাজার কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম মামুন বলেন, ‘শহীদুল হকের লোকজন আমার লোকজনের উপর হামলা করে। এতে আমার ৩ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহীদুল হক বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য মামুন ও মোস্তাক নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। ওরা আমার নেতাকর্মীদের উপর আজ অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে আমার ১৩ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।’
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ শাহজালাল বলেন, ‘তালতলীতে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। নৌ-বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’